জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তিনটি অপরাধের পৃথক অভিযোগে তাঁকে আজ এই দণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও দুটি অভিযোগে তার আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দিতে এরই মধ্যে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর কিছুক্ষণ পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সমুন্নত রাখার স্বার্থে’ সব সময়ের মতোই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে।
শেষ পর্যন্ত ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে কি না, সেটা এখন বড় প্রশ্ন, যার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে বিশ্লেষকদের। সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এর প্রভাব কী হতে পারে, সে নিয়েও আছে নানা আলোচনা। এদিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই রায়ের প্রভাব কী হতে পারে, এ নিয়ে আল জাজিরায় কথা বলেছেন দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক দুই বিশ্লেষক।
আব্বাস ফয়েজ, যাঁকে আল জাজিরা পরিচয় করিয়েছে ‘দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক স্বাধীন গবেষক’ হিসেবে, তিনি আজ শেখ হাসিনার রায়ের গুরুত্ব নিয়ে বলেছেন, আগামী বছরে আসন্ন নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেখাতে চেয়েছে, তারা জনগণের ইচ্ছার গুরুত্ব দিয়েছে।
‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা এটা দেখাতে চেয়েছেন যে তাঁদের অধীনে বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচ্ছন্ন ও আগের চেয়ে ভালো হতে পারে। এই রায়ের ফল কী হতে পারে, সেটা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে – সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে এই রায়ের প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় আছে’ – আল জাজিরাকে বলেছেন আব্বাস ফয়েজ।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে রক্তস্নাত অভ্যুত্থানে স্বজন হারানো পরিবারগুলো এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারে জানিয়ে আব্বাস ফয়েজ বলেছেন, পরিবারগুলো এখন এই রায়ের সমাপ্তি দেখতে চাইবে। পাশাপাশি এই রায়ের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের পথ দেখছেন আব্বাস ফয়েজ, ‘এই রায়ের গুরুত্ব এটাও যে, এটি জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়ার দরজা খুলে দিচ্ছে, সেটা তো খারাপ কিছু হতে পারে না।’
এদিকে বিশ্বজুড়ে সংঘাতের সমাধান ও যুদ্ধ প্রতিরোধ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপে মায়ানমার ও বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষক থমাস কিন বলেছেন, বিচারের প্রক্রিয়া ও গতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সেটা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সে সময়ের কার্যকলাপ এতে গৌণ হয়ে যায় না।
‘প্রক্রিয়াটা নিয়ে সমালোচনা থাকবে। আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিবাদ থাকে। আর এই ক্ষেত্রে যে গতিতে শুনানিগুলো শেষ করা হয়েছে, বিবাদীপক্ষের দিক থেকে তথ্য-প্রমাণের যে অভাব দেখা গেছে সেসবও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে… তবে এসবের কারণে শেখ হাসিনার কার্যকলাপকে খাটো করে দেখানো বা সেসব থেকে চোখ সরিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না’ – এএফপিকে থমাস কিন বলেছেন বলে জানাচ্ছে আল জাজিরা।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে এই রায়ের প্রভাব কী হতে পারে, সে ব্যাপারে থমাস কিনের বিশ্লেষণ, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা এখন অনেক ক্ষীণ হয়ে গেল বলেই মনে হচ্ছে।’ সঙ্গে এ-ও যোগ করেছেন, ‘…রাজনীতিতে এই রায়ের প্রতিক্রিয়া হবে দেখার মতো।’



