দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আপাতত ফেরত পাঠাবে না ভারত। একথা বলছেন ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক শ্রী রাধা দত্ত। তবে এই রায়ে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ইতি ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে, কূটনৈতিক বোঝাপড়া ছাড়া শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার আর কোনো পথ দেখছেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. আমেনা মহসিন।
ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধের অভিযোগে শুরু হয় তার বিচার। ১৩ মাসের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে। ঘোষিত রায়ের বিষয়ে অবগত আছে বলে জানায় দিল্লি। তবে প্রশ্ন ওঠে—এবার কি শেখ হাসিনাকে ফেরত দিচ্ছে ভারত? এই রায়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লির অবস্থান কি বদলাচ্ছে?
ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শ্রী রাধা দত্ত বলেন, ‘ভারতের কাছে চাইলে ভারত তাকে ফেরত দেবে—এটা কথা নয়। কারণ বিষয়টা অত্যন্ত জটিল। এ রকম মৃত্যুদণ্ডের পর আমার মনে হয় না ভারত কখনোই শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত যেতে দেবে। উনি আগে ছয় বছর যখন এখানে ছিলেন, তখনও নিজের দেশে যেতে পারেননি। ভুলে গেছেন সেই সময়টা? তখনও তো ভারতের কাছেই উনি ছিলেন। সে সম্পর্ক কি একেবারে মুছে দেওয়া যায়?’
শেখ হাসিনাকে দেওয়া আতিথেয়তার অবস্থান আপাতত বদলাচ্ছে না দিল্লি। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ইতি ঘটেছে বলে মনে করেন ভারতের এই আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিশেষজ্ঞ।
ড. শ্রী রাধা দত্ত বলেন, ‘যে ব্রুটাল অপরেশনগুলো উনি নিজেই চালিয়ে গেছেন বা ওনার অধীনে চলেছে, সেগুলো কি কেউ গ্রহণ করতে পারে? ট্রান্সপারেন্সি–অ্যাকাউন্টেবিলিটিরও তো একটা জায়গা থাকে। ওনার রাজনৈতিক জীবনে এটা অবশ্যই বড় দাগ। উনি কখনো এটাকে অতিক্রম করতে পারবেন কিনা, ওভারকাম করতে পারবেন কিনা—সেটা নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন আছে।’
ভারত শেখ হাসিনার রায়কে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছে। তাই কূটনৈতিক বোঝাপড়া ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার আর কোনো পথ দেখছেন না বিশ্লেষকেরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন বলেন, ‘ভারত এটাকে রাজনৈতিকভাবেই ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবে। এখানে যে লিগ্যাল চ্যালেঞ্জ বা ডিপ্লোমেটিক চ্যালেঞ্জগুলো আছে সেগুলোই আমাদের ব্যবহার করতে হবে। এর বাইরে আর কোনো উপায় নেই। আপনি কাউকে জোর করে নিয়ে আসতে পারেন—এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এটা হয় না।’
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় একমত দুই দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।



