প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েই অর্থনীতিতে যে অবদান রেখেছিলেন খালেদা জিয়া

প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েই অর্থনৈতিক সংস্কারে জোর দেন বেগম খালেদা জিয়া। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে পরবর্তী দুই মেয়াদে তার সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তগুলো দেশের অর্থনীতিকে বাজারভিত্তিক ধারায় নিয়ে যায়। 

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৪ পিএম

প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েই অর্থনৈতিক সংস্কারে জোর দেন বেগম খালেদা জিয়া। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে পরবর্তী দুই মেয়াদে তার সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তগুলো দেশের অর্থনীতিকে বাজারভিত্তিক ধারায় নিয়ে যায়। যা তৈরি পোশাক, ব্যাংক-বিমা খাত ও শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অর্থনীতিকে বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দেওয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তার শাসনামলেই।

দেশের রাজনীতিতে এক ‘আপসহীন’ নেত্রী হিসেবে স্বীকৃত বেগম খালেদা জিয়া। অর্থনীতির ধারাকে এগিয়ে নিতেও তিনি ছিলেন আপসহীন। অর্থনীতিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ও কাঠামোগত পরিবর্তন শুরু হয়েছিল তার শাসনামলে।

সবচেয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটে তৈরি পোশাকশিল্পে। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকালেই তৈরি পোশাক দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হয়। শুল্ক ও কর ছাড়, বন্ড সুবিধা এবং রপ্তানি প্রণোদনার ফলে শিল্পটি দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। এতে এই খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনও ত্বরান্বিত হয়।

প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দেয় তাঁর সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ব্যাংক স্থাপনের সুযোগ বাড়ানো হয়। এতে প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং আর্থিক সেবার পরিধি শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হতে শুরু করে। একই সময়ে ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ে।

ব্যাংক খাতের সঙ্গে বিমা খাতেও আসে ইতিবাচক পরিবর্তন। জীবন বীমা ও সাধারণ বীমায় নতুন কোম্পানি গড়ে ওঠে তাঁর শাসনামলে। বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ায় বিমা খাতে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা জোরদার করেন বেগম খালেদা জিয়া। গঠন করা হয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। এতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লে ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিনিয়োগবান্ধব নীতির ফলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘পতনের মুখ থেকে পুঁজিবাজারকে তিনি (খালেদা জিয়া) অনেকটা রক্ষা করেছিলেন। এই সেক্টরে স্থিতিশীলতা তিনি আসতে পেরেছিলেন। অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করে দেওয়া–এই জিনিসটা ছাড়া কিন্তু আমাদের উন্নয়ন সম্ভব ছিল না। সেটা ১৯৯১ সাল থেকে খুব সফলভাবে ধীরে ধীরে এমনভাবে করা হয়েছে যে, কোনো অর্থনীতিতে ঝাঁকুনি না দিয়ে চমৎকারভাবে এটা কার্যকর করা হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার শাসনামলে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট চালু করা হয়, যা বর্তমানে রাজস্ব আদায়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে যমুনা বহুমুখী সেতুর ভৌত নির্মাণ শুরু, মেঘনা-গোমতী সেতু নির্মাণ, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন আধুনিকীকরণ ও বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। 

সব মিলিয়ে, একটি নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের যে প্রাথমিক ভীত, তা নির্মিত হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেই।

টাইমলাইন: খালেদা জিয়ার প্রয়াণ
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৪
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৮
প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েই অর্থনীতিতে যে অবদান রেখেছিলেন খালেদা জিয়া
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:১৯
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবে। মূল নীতিগত...
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।...
চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ১০.১০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে পাওয়া ৮.৯৩৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৩.১ শতাংশ বেশি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সোলারের ব্যবহার বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে গ্রিড বিদ্যুতের চাহিদা ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর নীতিমালা ও বিনিয়োগের নিশ্চয়তা জরুরি বলে মনে...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব পালনের শতভাগ অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনে কোনো দুশ্চিন্তা বা শঙ্কার...
রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রসংস্কারের যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর