রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, তখন খালেদা জিয়া ছিলেন সাধারণ এক গৃহবধূ। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর নেতৃত্ব সংকটে পড়ে বিএনপি। অনিশ্চিত সেই সময়ে দলের হাল ধরেন খালেদা জিয়া। তাঁর দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দেশ ও মানুষের জন্য যেমন অবদান রেখেছেন, তেমনি বিএনপিকেও নিয়ে গেছেন জনপ্রিয়তার শিখরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার দক্ষ নেতৃত্ব আর দূরদর্শিতায় বেশ ভালোভাবেই সংকটকাল উতরে গেছে বিএনপি।
রাজনীতিতে উত্থান
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে হত্যার শিকার হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপি তখন বিপর্যস্ত, দ্বিধা-বিভক্ত। দলের হাল কে ধরবেন—এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা।
জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। বয়স তাঁর আনুমানিক ৭৮। সেসময়ের রাজনীতিতে তাঁকে একজন প্রবীণ ও দুর্বল মনোভাবের ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হতো। তৎকালীন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে বেশ পছন্দ করতেন। কারণ তাঁরা জানতেন, তিনি রাজনৈতিকভাবে দক্ষ নন, বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিকভাবেও দুর্বল। তখন বিএনপির একটি অংশ চেয়েছিল কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বের কাঠামো ঠিক করা হোক। কিন্তু অন্য একটি অংশ, যাঁরা রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের সরকারে ছিলেন, তাঁরা সেটির বিরোধিতা করেন।

প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ তাঁর ‘চলমান ইতিহাস: জীবনের কিছু সময় কিছু কথা’ বইতে লিখেছেন, সামরিক এবং শাসকচক্রের জন্য সবচেয়ে বড় ভয় ছিল খালেদা জিয়াকে নিয়ে। কারণ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য খালেদা জিয়াই সেসময় সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি হতে পারতেন। কিন্তু তড়িঘড়ি করে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য আব্দুস সাত্তারের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এইচ এম এরশাদ চেয়েছিলেন যে, সাত্তার প্রেসিডেন্ট হোক। এ নিয়ে তখন বিএনপিতে মতভেদ দেখা দেয়। যদিও তাতে লাভ হয়নি। কারণ শেষপর্যন্ত সেনাপ্রধানের ইচ্ছে অনুযায়ীই কাজ হয়েছিল।
মওদুদ আহমদ লিখেছেন, ‘বেগম জিয়া যদি প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চাইতেন, তাহলে অন্য কারও প্রার্থী হওয়ার তখন আর প্রশ্ন উঠতো না।’
জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন, তখন খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যেত না। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি যখন রাজনীতিতে আসেন, তা অনেককে চমকে দিয়েছিল।
বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমান তাঁর ‘সংগ্রামী নেত্রী খালেদা জিয়া’ শীর্ষক এক লেখায় তাঁকে বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হলেও লাজুক গৃহবধূরূপে তিনি দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে সাংসারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন।’
রাজনীতিতে অভিষেক
বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের বার্ধক্য ও সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে অসন্তোষের কারণে তৎকালীন বিএনপির একাংশ খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে আনার পরিকল্পনা করেন। যদিও তখন পর্যন্ত রাজনীতির প্রতি খালেদা জিয়ার তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। এর পেছনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেন। প্রথমত, জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড খালেদা জিয়ার মনে গভীর দাগ কেটেছিল এবং তিনি মানসিকভাবে সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না। দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে পরিবারের দিক থেকে তেমন কোনো উৎসাহ ছিল না। তাছাড়া রাজনৈতিক ভাগ্য তাঁকে কোথায় টেনে নিয়ে যায়, সেটি নিয়েও হয়তো একপ্রকার চিন্তা ছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ ‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’ নামে একটি বই লিখেছেন। বিবিসি বাংলায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘জিয়াউর রহমানের আকস্মিক হত্যাকাণ্ড তাঁর মনের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। তিনি হয়তো ভাবতে শুরু করেছিলেন যে রাজনীতি হয়তো মানুষকে এ ধরনের করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। রাজনীতির কঠিন পদযাত্রা সামলাতে পারবেন কিনা, সেটি নিয়েও তাঁর মনে প্রশ্ন ছিল। তাছাড়া পারিবারিকভাবে তাঁর পিতা মেয়ের রাজনীতির ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না।’

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমনের বিষয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচএম এরশাদের মনেও ভয় ছিল। কারণ তিনি যেহেতু ক্ষমতা দখলের দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিলেন, সেই হিসাবে ভেবেছিলেন যে, খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এলে তাঁর জন্য পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।
তবে জিয়াউর রহমান পরবর্তী সময়ে নেতাকর্মীরা দিনের পর দিন খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে আসার অনুরোধ এবং তাঁকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, তিনি হাল না ধরলে দল টিকবে না। অবশেষে নেতাকর্মীদের ‘আশার বাতিঘর’ হিসেবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যোগদান করেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
কর্মী থেকে চেয়ারপারসন
বিএনপির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য মতে, ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি একজন কর্মী হিসেবে খালেদা জিয়া বিএনপির রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন। সেদিন তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ লাভ করেন। একই বছর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে (৭ নভেম্বর) জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে খালেদা জিয়া প্রথমবার বক্তব্য রাখেন।
লেখক মহিউদ্দিন আহমদ তাঁর ‘বিএনপি: সময়-অসময়’ বইয়ে লিখেছেন, বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া শুরু করেন।
তিনি লিখেছেন, ‘১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার এবং প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানের সাথে খালেদা জিয়াও উপস্থিত ছিলেন।’
১৯৮২ সালের ২১ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। তখন এ নিয়ে দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। বিএনপির তরুণ অংশ চেয়েছিল খালেদা জিয়া দলীয় প্রধান হোক। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে দলের প্রধান হিসেবে দেখেতে আগ্রহী ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ।

বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে প্রার্থী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া ও রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার। দলটির ওয়েবসাইটে তখনকার ঘটনা বর্ণনা করে বলা হয়েছে, ‘এর ফলে এক বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিচারপতি সাত্তার দু’বার বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় যান। বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে তরুণ নেতৃত্বের মনোভাবের কথা জানান। এ সময় বিচারপতি সাত্তার বেগম খালেদা জিয়াকে দলের সহ-সভাপতির পদ এবং দেশের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান। কিন্তু বেগম জিয়া ব্যক্তিগত কারণে তা গ্রহণ করেননি। অবশেষে বিচারপতি সাত্তারের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর বেগম খালেদা জিয়া চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন।’
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান এইচএম এরশাদ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। তখন রাজনীতিতে সাত্তারের তেমন গুরুত্ব থাকেনি। তাঁর বার্ধক্য, অসুস্থতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে দল থেকে তিনি আড়ালে পড়ে যান।
সেই সময় বিচারপতি আব্দুস সাত্তার আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান থাকলেও দল পরিচালনায় খালেদা জিয়ার প্রভাব বাড়তে থাকে। ১৯৮৩ সালের মার্চে খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হন এবং এপ্রিলে প্রথমবার বিএনপির এক বর্ধিত সভায় তিনি ভাষণ দেন। কয়েকমাস পরেই খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
মওদুদ আহমদ লিখেছেন, ‘খালেদা জিয়া দলের চেয়ারম্যান হোন এটি সামরিক নেতারা, দুই গোয়েন্দা বিভাগ এবং মন্ত্রীসভার দুই গ্রুপ—কেউ চায়নি। প্রভুদের এবং নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজ অনেকটা জোর করেই বিচারপতি সাত্তারকে দিয়ে মনোনয়নপত্রে সই করান।’
আপসহীন নেত্রী
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই মূলত স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন খালেদা জিয়া। সেসময়ের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ১৯৮৩ সালের নির্বাচনে গণতন্ত্রের প্রশ্নে অটুট থাকাই তাঁকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

এরশাদবিরোধী আন্দোলন যখন ধীরে ধীরে আরও জোরালো হচ্ছিল, তখন অন্য রাজনৈতিক দল থেকেও খালেদা জিয়াকে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। সেই ব্যক্তিদের মধ্যে হায়দার আকবর খান রনো ও রাশেদ খান মেনন ছিলেন অন্যতম। খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য তাঁরা তাঁর তৎকালীন ক্যান্টনমেন্টের বাসায় গিয়েছিলেন।
হায়দার আকবর খান রনো তাঁর আত্মজীবনী ‘শতাব্দী পেরিয়ে’ বইতে লিখেছেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার কাছে প্রস্তাব করলাম, আপনি রাজনীতিতে আসুন, বিএনপির হাল ধরুন, এ ক্ষেত্রে এরশাদের বিরুদ্ধে লড়ব। এরশাদ সম্পর্কে তাঁর ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু সরাসরি রাজনীতি করবেন কিনা, সে সম্পর্কে কিছু বললেন না। দেখলাম, তিনি স্বল্পভাষী, তবে আমাদের কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। কোনো কথা ঠিকমতো বুঝতে না পারলে, প্রশ্ন করে ভালো করে বুঝে নিচ্ছিলেন। সবশেষে তিনি বললেন, ভেবে দেখব।’
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের দিনগুলোতে বেশ কয়েকবার আটক করা হলেও আন্দোলন থেকে সরে যাননি খালেদা জিয়া। সেই থেকেই তিনি মূলত আপসহীন নেত্রী।

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সরব হওয়ায় দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার ব্যাপক পরিচিতি গড়ে ওঠে। জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিএনপি জয়লাভ করে এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি। অর্থাৎ, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ১০ বছরের মাথায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন খালেদা জিয়া। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লেখান ইতিহাসের পাতায়। এরপর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া আরও দু’বার (১৯৯৬ ও ২০০১) প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।
ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে খালেদা জিয়া
২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তার আগে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে শুরু হওয়া আন্দোলনের জেরে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করে ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সরকার, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ওয়ান ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বুকে চেপে বসে ফ্যাসিবাদ। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর সেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। এ সময় তাঁকে জেল-জুলুমের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যেতে হয়। ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। সেসময় খালেদা জিয়াকে কয়েকমাস গৃহবন্দী করে রেখেছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার। তাঁর সামনে তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয় কয়েকটি দুর্নীতির মামলা।

এরমধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাবন্দি হন। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারান্তরীণ থাকেন। ফলে একই বছর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারেননি। পরে করোনা মহামারি শুরু হলে ২০২০ সালে তৎকালীন সরকারের এক নির্বাহী আদেশে কারামুক্ত হন তিনি। তবে এই কারামুক্ত সময়েও তাঁকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজনীতিতে তাঁর অংশ না নিতে পারা, অসুস্থতা সত্ত্বেও বিদেশ ভ্রমণে বাধার মতো নিষেধাজ্ঞা।



