বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচির প্রথম দিনে সারা দেশের ২১ জেলায় শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, পুলিশ, সাংবাদিকসহ ১০০ জন নিহত হয়েছে। দিনভর সহিংসতায় রাজধানীতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্দোলনকারী, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রোববার রাজধানী কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি থানার ওসিসহ ৯ জন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। রোববার সন্ধ্যায় ডিএমপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও সারাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় অর্ধশতাধিক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সব পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।
সারা দেশে সহিংসতায় ১৪ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সিরাজগঞ্জেই ১৩ জন।
দিনভর সহিংসতায় ঢাকায় ৮ মৃত্যু, ৯ পুলিশ গুলিবিদ্ধ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচিতে দিনভর সহিংসতায় রাজধানীতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্দোলনকারী, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রোববার রাজধানী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৮৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি থানার ওসিসহ ৯ জন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। রোববার সন্ধ্যায় ডিএমপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও সারাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় অর্ধশতাধিক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত গোটা রাজধানী পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। অচল হয়ে পড়ে পুরো ঢাকা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। দুর্ভোগে পড়েন সড়কে চলাচলকারীরা।
কিছু এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক সময় সংঘর্ষে জড়ায় তিন পক্ষ।
উত্তরা, জিগাতলা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে হতাহতের খবর আসে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ৭ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া, মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু হয়।
এদিকে, সকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটে। এসময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো হাসপাতালে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ বক্স ও গাড়িতে অগ্নি-সংযোগের ঘটনাও ঘটে।
দেশের সব পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকাল বন্ধ: বিজিএমইএ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবিতে অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যে ব্যপক সহিংসতার পর দেশের সব কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিক কর্মচারি ভাইবোনদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সকল পোশাক শিল্প কারখানা বন্ধ রাখার জন্য মালিক ভাইবোনদের অনুরোধ করা হইল।’
১৪ পুলিশসহ নিহত বেড়ে ৮৫
আন্দোলনের নামে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ঢাকাসহ ২০ জেলায় সাংবাদিক-পুলিশসহ ৮৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলার ঘটনায় ১৩ পুলিশ ছাড়াও রায়গঞ্জে সাংবাদিক, ৩ আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন।

দেশজুড়ে ১৪ পুলিশ নিহত, আহত ৩ শতাধিক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে দেশের বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ পুলিশ সদস্য নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধু সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানাতেই নিহত হয়েছেন ১৩ পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সদরদপ্তরের এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয় বার্তায়।
পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, সন্ত্রাসীরা ডিএমপির যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁও থানা, টাঙ্গাইলের গোড়াই হাইওয়ে থানা, বগুড়ার সদর, দুপচাঁচিয়া ও শেরপুর থানা এবং নারুলী পুলিশ ফাঁড়ি, জয়পুরহাট সদর থানা, কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা, রংপুরের গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ ও গংগাচড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও আশুগঞ্জ থানা, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর থানা, হবিগঞ্জের মাধবপুর ফাঁড়ি, ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিস, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়, দিনাজপুর সদর থানা আক্রমণ করেছে। আহত পুলিশ সদস্য প্রায় তিন শতাধিক।
সন্ত্রাসী হামলায় সিরাজগঞ্জে ১৩ পুলিশ নিহত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে সন্ত্রাসী হামলায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ১৩ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয় বার্তা।

দেশজুড়ে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৭০
অসহযোগ আন্দোলনে সহিংসতায় এপর্যন্ত ঢাকাসহ ১৭ জেলায় সাংবাদিক-পুলিশসহ ৭০ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলা চালিয়ে ১১ পুলিশকে এবং রায়পুরে সাংবাদিক, ৩ আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধীদের মার্চ টু ঢাকার দিন পরিবর্তন
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মার্চ টু ঢাকার তারিখ একদিন এগিয়ে আনা হয়েছে। রোববার আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ৬ আগষ্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ আগামীকালই সারাদেশের ছাত্র–জনতাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১৬ জেলায় পুলিশ-সাংবাদিকসহ নিহত ৪০
চলমান সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পুলিশ ও সাংবাদিকও রয়েছেন।
৩ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা
সোমবার থেকে তিনদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে এ তথ্য নিশি্চত করেছেন।
মেজবাহ্ উদ্দিন বলেন, ‘সোম, মঙ্গল ও বুধবার সাধারণ ছুটি থাকবে।’
১৫ জেলায় নিহত বেড়ে ৩১, ছাত্রদের ঘরে ফেরার আহ্বান
দেশজুড়ে সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৩১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর আহত ছয়শ'র বেশি। এর মধ্যে ফেনীতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। মাগুরা, রংপুর ও বগুড়ায় ৩ জন করে নিহত হন। কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, পাবনায় ২ জন করে নিহত। সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, বরিশাল, ভোলায় ১ জন করে নিহত হয়েছে।
এদিকে ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার। এতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে জঙ্গি হামলা হচ্ছে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জে দুষ্কৃতিকারীরা সুপার মার্কেট এলাকায় জড়ো হলে তাদের লক্ষ্য করে ককটেল ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় অফিস-দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। ফেনীতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। রংপুর নিহত হয়েছেন ৩ জন। আহত ৮ সাংবাদিকসহ ২০ জন। মাগুরায় সংঘের্ষ মারা গেছেন আরও ৩ জন। বগুড়ায় মারা গেছেন ৩ জন। আহত ৪০ জন।
পাবনায়ও মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে ফাঁড়ির এক কনস্টেবলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দেবীদ্বারে সংঘর্ষে আববদুর রাজ্জাক রুবেল নামে ১ জন নিহত হয়েছেন। আহত ১২ জন।
চট্টগ্রামে দুষ্কৃতিকারীরা-পুলিশ-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ১২ সহ আহত ৩৫ জন। এছাড়া সংঘর্ষ হয় নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, টাঙ্গাইল, নাটোর, যশোর, ঝিনাইদহ, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জায়গায়। এদিকে খুলনা, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়কে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ
রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সব বিভাগীয় শহর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শিল্পাঞ্চল, জেলা সদর ও উপজেলা সদরে সান্ধ্য আইন বলবৎ করা হলো।
ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১১ জেলায় ২২ জন নিহত, আহত ৫ শতাধিক
সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে আন্দোলনকারী, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মোট ২২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আর আহত হয়েছেন ৫ শতাধিক।
মাগুরা ও রংপুরে ৩ জন করে নিহত হন। মুন্সিগঞ্জ, বগুড়া, পাবনায় ২ জন করে নিহত। কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, বরিশাল, ভোলায় ১ জন করে নিহত হয়েছে।

ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৭ জেলায় নিহত ১১, আহত ২ শতাধিক
সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে আন্দোলনকারী, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ১১ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জ, রংপুর, বগুড়া, পাবনায় ২ জন করে নিহত হয়েছে। মাগুরা, কুমিল্লা ও বরিশালে একজন করে নিহত হয়েছে।
ঢাকার সিএমএম আদালতে হামলা, সব বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ
চলমান সহিংসতার মধ্যে আদালতের হামলার ঘটনায় নিম্ন আদালতের সব বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বেলা ১২টার পর পুরান ঢাকায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সামনে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ইট-পাটকেল ছোড়া হয় আদালতে।
বাংলামোটরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের সংঘর্ষ
ঢাকার বাংলামোটরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মাগুরায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ, নিহত ১
আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে মাগুরায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মেহেদী হাসান (রাব্বি) নামে একজন মারা গেছেন। জানা গেছে, তিনি জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তবে এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ
শিক্ষার্থীদের ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করেছে বিটিআরসি।
আজ রোববার বেলা ১টার কিছু সময় পর থেকে মোবাইলে আর ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

মুন্সিগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত ২, সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ৫০
সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে মুন্সিগঞ্জে আন্দোলনকারী, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুইজন। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ৫০ জন। নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ, গুলি ও টিয়াসেল নিক্ষেপের করা হচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. মোস্তফা কামাল এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমিনুল ইসলামকে বারবার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
পাবনায় দুজন নিহত
রোববার বেলা ১টার পরে পাবনায় আন্দোলনকারী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে। এসময় অন্তত ৩০ জন আন্দোলনকারী আহত হয়েছে।
নিহতেরা হলেন হাজীরহাট এলাকার কিশোর আবুল কাশেমের ছেলে মাহবুবুল হোসেন (১৬), বলরমপুর গ্রামের দুলাল জাহিদুল ইসলাম (১৯)। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে গুলিবিদ্ধ ১০ জনকে
রোববার বেলা ১টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ১০ জনকে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা রাজধানীর কোথাকার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তা জানা যায়নি। এছাড়া আহত অবস্থায় আরও দুজনকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আগুন, গাড়ি ভাঙচুর
আজ রোববার সকাল থেকে শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী এবং আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। এরপরই কোথাও কোথাও ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে শাহবাগ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রাঙ্গণে রাখা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে গেছে।
এ ছাড়া প্রায় একই সময় পুরান ঢাকায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সামনে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ওই এলাকায়। সায়েন্সল্যাবে পুলিশ বক্সে ভাংচুর চালানো হয়েছে। মিরপুরের বিভিন্ন স্থানেও বিক্ষোভ হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
যাত্রাবাড়ীর কাজলায় ছাত্রলীগ-আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সায়েন্সল্যাবেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং মোড়ে সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গতকাল শনিবার কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। আর আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কর্মী জমায়েতের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।



