ঝিনাইদহ–৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমে মরদেহের সন্ধান পাওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে কলকাতা সিআইডির কর্মকর্তারা। ঘটনার ২২ দিন পেরিয়ে যাওয়ায় খণ্ডিত মরদেহ বহন করা ট্রলি ব্যাগটির খোঁজ পাওয়া নিয়েও সন্দিহান তারা।
তবে, এই সংসদ সদস্যের মরদেহ উদ্ধারে পশ্চিমবঙ্গে সিআইডি কর্মকর্তারা এখনো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া এনিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, আজীম হত্যায় অভিযুক্ত মো. সিয়াম হোসেন কলকাতা সিআইডির হেফাজতে আছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিন একথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নেপালে গ্রেপ্তার আসামি সিয়াম কলকাতার সিআইডির হেফাজতে আছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দুদেশের তদন্তের ভিত্তিতে, সমঝোতার ভিত্তিতে মামলার বিচার সম্পন্ন হবে।’
আজীম হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সিয়াম নেপাল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, এ তথ্য আগেই জানিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ। গত ৪ জুন নেপাল থেকে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিয়াম নেপালে গ্রেপ্তার আছেন। তাঁকে ভারতীয় পুলিশও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিতে চায়। তাঁকে কোন দেশের হাতে দেওয়া হবে তা নেপাল পুলিশের ওপরে নির্ভর করছে।’
গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে নিখোঁজ হন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম। ২২ মে কলকাতা পুলিশ জানায়, আজীম খুন হয়েছেন। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানান, আজীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় একই দিন আজীমের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরুর পর আসতে থাকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে আজীমের মরদেহ পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতে মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দুই দেশের পুলিশ। এরমধ্যে ডিবির হেফাজতে আছে আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, সেলেস্তা রহমান ও তানভীর ভূঁইয়া। আর কলকাতা পুলিশের হেফাজতে আছেন জিহাদ হাওলাদার। এখন এ তালিকায় যুক্ত হলেন সিয়াম।



