ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি সেলেস্তা রহমান। রিমান্ড শেষে গতকাল সোমবার মূখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে তাঁকে হাজির করা হয়।
তবে জবানবন্দিতে সেলেস্তা রহমান নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আনোয়ারুল আজীম হত্যায় কলকাতার ঘটনা বর্ণনা করেন তিনি। জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার গত ১২ মে ভারতে যান চিকিৎসার কথা বলে। ১৩ মে থেকেই তিনি নিখোঁজ। এরপর ২২ মে খবর আসে কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীব গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন তিনি।
পরে ভারতীয় পুলিশের দেওয়া তথ্যে দেশে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরই একজন সেলেস্তা রহমান।
নিখোঁজের ১৫ দিন পর কলকাতা ও ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে ঘটনাস্থল সঞ্জীব গার্ডেনের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হয় কিছু মাংস। তবে তা এমপি আনারের কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যায় জড়িত সিয়াম হোসেনকে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) তথ্যে নেপালে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী এই ব্যক্তি কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জীব গার্ডেনের ফ্ল্যাটে আনারকে খুনের পর নেপালে আত্মগোপন করে।
পুলিশ সূত্র বলছে, সিয়ামকে বাংলাদেশে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে কাঠমান্ডু পুলিশ। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দল নেপাল অবস্থান করছেন। তবে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকায় সিয়ামকে ফেরাতে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
- সেপটিক ট্যাংকে মাংসপিণ্ডের সঙ্গে মিলল হাড় ও চুল
- ভারতে গিয়ে ৪ দিন ধরে ‘খোঁজ নেই’ এমপি আনারের
- নিখোঁজ এমপি আনার, ৬ দিনেও সুস্পষ্ট তথ্য নেই সরকারের কাছে
- এমপি আনোয়ারুল আজীমের মরদেহ পাওয়া গেল কলকাতায়
- নিখোঁজ হাওয়া থেকে মরদেহ উদ্ধার, এমপি আজীমকে নিয়ে যা ঘটল
- কলকাতায় এমপি আজীমের মরদেহ উদ্ধার: যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি
- এমপি আজীমকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- জব্দ হওয়া লাল গাড়িটি ভাড়া করেছিলেন এমপি আজীমই



