এমপি আজীম হত্যা: ঘটনাক্রম নিয়ে যা জানা গেল

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৩৩ পিএম

ঝিনাইদহ–৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম ভারতের কলকাতায় গিয়ে নিখোঁজ হন। ঢাকা ও কলকাতার পুলিশ বলছে, সেখানে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু কীভাবে? তাঁর মরদেহেরই–বা কী হলো? রহস্যের জট খুলছে না। চলুন দেখে নেওয়া যাক এখন পর্যন্ত এমপি আজীম হত্যা বিষয়ে কী কী জানা গেল—

১২ মে: চিকিৎসা ও বন্ধুর মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে আনোয়ারুল আজীম ভারতে যান বলে জানায় তাঁর পরিবার। একা দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের গেদে প্রবেশ করেন। তিনি কোনো হোটেলে ওঠেননি। ওঠেন বরানগর থানা এলাকার মন্ডলপাড়া লেনের গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে।

১৩ মে: ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আব্দুর রউফের সঙ্গে কথা হয় আজীমের। এদিনই চিকিৎসার কথা বলে গোপালের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। গোপাল দাবি করেন, এরপর আজীম দিল্লি যাবেন বলে জানান। সঙ্গে ভিআইপি থাকায় তাঁকে (গোপাল) ফোন করতেও মানা করেন।

১৬ মে: সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে এমপি আজীমের ফোন থেকে পিএসের নম্বরে সর্বশেষ কল আসে। কলটি ধরতে পারেননি পিএস। এক মিনিট পর পিএস তাঁকে কল করলে ওপাশ থেকে রিসিভ হয়নি। এর পর থেকে আজীমের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। এরপর থেকেই মূলত নিখোঁজ ছিলেন আজীম।

১৮ মে: কলকাতা সংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বরানগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন গোপাল বিশ্বাস। এদিকে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান জানান, এমপি আজীমের খোঁজ না পাওয়ার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই দিনে ঝিনাইদহ–১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির বর্ধিত সভা হয়। সেখানে আনোয়ারুল আজীমের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল করিম মিন্টু। তিনি জানান, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে জানানো হয়, ভারতে যাওয়া আজীমের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি তিনি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের অবহিত করেন। একই দিন আজীমের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রউফ জানান, তিনিও ১৬ মে থেকে এমপি আজীমকে ফোনে পাচ্ছেন না। তাঁর খোঁজে পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকজনকে ভারতে পাঠানো হয়েছে।

১৯ মে: ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়ে ৪ দিন ধরে বাড়ির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান জানান, তাঁরা খোঁজ করছেন। কিন্তু এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি আজীমের।

২২ মে: সকাল ৯টা—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, এ বিষয়ে সরকারের কাছে হালনাগাদ তথ্য নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের এনএসআই, এসবি, পুলিশ সবাই ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আমরা আশা করি, ভারতের সহায়তায় দ্রুতই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাবে।’
এমপি আজীমের খোঁজে ভারতের বিশেষ টাস্কফোর্স এসটিএফের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে বলে জানায় বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এসটিএফ ডিবিকে জানায়, আজীমের সবশেষ অবস্থান ছিল উত্তর প্রদেশের মুজাফ্ফরাবাদে। এ ছাড়া একাধিক এলাকায় তাঁর সিমের লোকেশন পাওয়া গেছে। 
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ভারতের বিশেষ টাস্কফোর্স ও গোয়েন্দাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আমরা যোগাযোগ রাখছি। আনোয়ারুল আজীম ভারতে যে বাসায় উঠেছিলেন, সেখানে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। বাসাটা কার নামে সেটা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

সকাল ১১টা—ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন ও টিভিনাইন বাংলার খবরে বলা হয়, আনোয়ারুল আজীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীব গার্ডেন থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দুপুর ১টা ৩০—পরিকল্পিতভাবে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে খুন করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, কারা খুন করেছে তা জানতে বাংলাদেশ ও ভারতের পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আটক তিনজন বাংলাদেশ পুলিশের কাছে আছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, খুনের সঙ্গে ভারতের কেউ জড়িত না। বাংলাদেশিরা খুন করেছে।

দুপুর ২টা ২৬—ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে শোকবার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সন্ধ্যা ৭টা—কলকাতা সিআইডির আইজি অখিলেশ চতুর্বেদি সাংবাদিকদের জানান, আজীমকে হত্যার আলামত তাঁরা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে ফ্ল্যাটে হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেই ফ্ল্যাটের মালিকের নাম সঞ্জীব রায়। তিনি পশ্চিমবঙ্গের এক্সাইজ (শুল্ক) দপ্তরের কর্মকর্তা। আক্তারুজ্জামান নামে এক মার্কিন নাগরিককে সঞ্জীব রায় ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ভিকটিম বা অভিযুক্তদের কী সম্পর্ক, কলকাতা পুলিশ এখনো সেটি খুঁজছে।’

এ ঘটনায় কলকাতায় দুজনকে আটক করা হয়। এদের একজন ক্যাবচালক। বিধান নগর পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মানব শ্রিংলা জানান, ‘জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাবচালক জানিয়েছেন ১৩ মে যে ব্যক্তিকে সে গাড়িতে তুলেছিল, তাকে এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে নামিয়ে দেয়।’

এমপি আজীম নিখোঁজের ঘটনায় কলকাতা সংলগ্ন সিঁথি পুলিশ স্টেশনে একটি জিডি করা হয়। সেখানকার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সঞ্জিব গার্ডেনের ওই ফ্ল্যাটের ভেতরেই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। সেখানে রক্তের দাগ ও অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে। ১৩ মে ওই এমপির সাথে তিনজন সেখানে ঢুকেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনজনের প্রত্যেকেই পৃথক পৃথকভাবে ওই ফ্ল্যাট থেকে বের হয়েছে। ১৫ মে একজন, ১৬ মে আরেকজন এবং ১৭ মে আরেকজন বের হয়েছেন সেখান থেকে। তিনজনের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন। এদের মধ্যে পুরুষ দুজন বাংলাদেশে ফিরে যান। বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগকে জানানো হলে তাঁরা দুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁদের দেওয়া তথ্য থেকেই আনোয়ারুল আজীমের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয় কলকাতা পুলিশ।

রাত ৮টা ৩০—সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। সন্ধ্যায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে ডরিন বলেন, গত ৯ মে রাত ৮টায় ন্যাম ভবনের বাসা থেকে আজীম তাঁর গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের উদ্দেশে বের হন। গত ১১ মে বিকেল পৌণে ৫টায় ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাঁর কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর একাধিকবার ফোন করলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

ডরিন লিখেছেন, ‘গত ১৩ মে বাবার ইন্ডিয়ান সিম নম্বর +৯১৭০৬৩২১৪৫৬৯ থেকে উজির মামার হোয়াটসআপ নম্বরে একটি ম্যাসেজ আসে, “আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সাথে ভিআইপি আছে। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নাই। আমি পরে ফোন দিব।” এটা ছাড়াও আরও কয়েকটি ম্যাসেজ আসে। সেই ম্যাসেজগুলি আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরনকারীরা করে থাকতে পারে।’ 

এজাহারে আরও লেখা হয়েছে, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গায় আমার বাবার খোঁজ খবর করতে থাকি। আমার বাবার কোন সন্ধান না পেয়ে আমার বাবার বন্ধু শ্রী গোপাল বিশ্বাস ইন্ডিয়ার বরানগর পুলিশ ষ্টেশনে গত ১৮ মে একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। আমরা বাবাকে খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখি। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে আমার বাবাকে অপহরণ করেছে।’ 

রাত ১০টা—চিকিৎসার কথা বলে ভারতে গিয়ে খুন হওয়া সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম সম্বন্ধে নানা তথ্য সামনে আসতে থাকে। ভারত ও বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, হুন্ডি ব্যবসা ও স্বর্ণ চোরাচালানের টাকার দ্বন্দ্বে তিনি খুন হয়ে থাকতে পারেন। ভারতের গোয়েন্দাদের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় নাগরিকের নাম পাওয়া যায়।  

ভারতীয় সিআইডি জানায়, অ্যাপার্টমেন্টটি সঞ্জীব রায়ের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন আক্তারুজ্জামান শাহীন নামের একজন বাংলাদেশি আমেরিকান। তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভা মেয়র সেলিমের ছোট ভাই। সেলিমের সঙ্গে আজীমের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সে সূত্র ধরেই শাহীনের সঙ্গে আজীমের পরিচয় হয়।

এদিকে বাংলাদেশি গোয়েন্দারা জানায়, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর এলাকাটি হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। ধারণা করা হচ্ছে, সেলিম নিজেও এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এরই মধ্যে আমানুল্লাহ ও ফয়সাল সাজিদকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের সঙ্গে মুস্তফা ফকির নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

ডিবি জানায়, আজীমের মরদেহ পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাঁকে মেরে টুকরো টুকরো করে টয়লেটে ফেলে ফ্ল্যাশ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের ধারণা—হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আজীম। আর এটি নিয়েই তৈরি হওয়া কোনো দ্বন্দ্ব এই হত্যার কারণ।

২৩ মে: আজীমকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করে কলকাতা পুলিশ। দেশটির পুলিশ বলছে, সুজুকি সুইফট মডেলের গাড়িটি (ডব্লিউবি১৮এএ৫৪৭৩) চলাচলের জন্য এমপি আজীমই ভাড়া করেছিলেন। গাড়িটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। গাড়ির মালিককেও পুলিশ হেফাজতে নেয়।

এই পর্যায়ে আজীমের সঙ্গে সঞ্জীব গার্ডেনে যাওয়া নারীর নাম সেলেস্তা রহমান বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। একইসঙ্গে এই নারী ভারতীয় নন, বরং বাংলাদেশের নাগরিক বলেও নিশ্চিত হওয়া যায়। সেলেস্তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তবে তিনি রাজধানীর পুরান ঢাকার বাসিন্দা।

এদিকে আজীম হত্যায় যুক্ত সন্দেহে যুবের ওরফে সিয়াম নামের আরেক যুবককে গ্রেপ্তারের কথা জানায় কলকাতা পুলিশ। তিনিই সঞ্জীব গার্ডেনের ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। সিয়ামও আমেরিকার নাগরিক। ঘটনার দিন ১৩ মে সঞ্জীব গার্ডেনের ওই ফ্ল্যাটে তিনি উপস্থিত ছিলেন। কলকাতা পুলিশ জানায়, আজীম হত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সিয়াম। আজীমকে হত্যার জন্য গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে যারা কলকাতায় গিয়েছিলেন, তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন সিয়াম। একই দিন আজীমের মরদেহ গুমে ব্যবহৃত আরেকটি গাড়ি জব্দের তথ্য জানায় পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি।

দুপুরের দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, আনোয়ারুল আজীমকে হত্যার পর হাড় ও মাংস আলাদা করে ফেলা হয়। পরে দুটি ব্রিফকেস করে সঞ্জীব গার্ডেনের ফ্ল্যাট থেকে সেগুলো সরানো হয়। ভারতীয় পুলিশের একটি দল আসার কথাও জানান ডিবি প্রধান। তিনি জানান, দুই মাস আগে রাজধানীর গুলশান ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসে এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মরদেহ নিশ্চিহ্ন করতে আলাদা করা হাড়-মাংসে হলুদ মিশিয়ে ফেলা হয় বিভিন্ন জায়গায়। শুরুতে বাংলাদেশেই হত্যার পরিকল্পনা করা হলেও, পরে তা ভারতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়।

এই ব্রিফিংয়েই হারুন জাহিদ বা জিহাদ নামের একজনের কথা বলেন, পরে যার পরিচয় কলকাতা পুলিশ থেকে জানানো হয়—কসাই জিহাদ, যাকে নেওয়াই হয়েছিল আজীমের মরদেহ কাটার জন্য।

এদিন রাতেই কলকাতা পুলিশের একটি দল ঢাকায় আসে।

২৪ মে: পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি জানায়, আনোয়ারুল আজীমকে খুনের জন্য কসাই পেশায় থাকা জিহাদ হাওলাদার নামে একজনকে ভাড়া করেছিল খুনিরা। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ জানায়, জিহাদ হাওলাদার একজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তাঁর বাড়ি খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানায়। তবে জিহাদ বসবাস করতেন ভারতের মুম্বাই শহরে। সেখানে একটি মাংসের দোকানে কসাইয়ের কাজ করতেন তিনি। হত্যার দুই মাস আগে জিহাদকে মুম্বাই থেকে কলকতায় আনে মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি কলকাতা পুলিশের। তাঁকে বারাসাত আদালতে তোলা হলে। আদালত তাঁর ১২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে খুলনায় জিহাদের পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর ধরে জিহাদ ভারতে পলাতক এবং সেখানে তিনি রঙের কাজ করেন। এদিকে ভারতের পুলিশ বলছে, জিহাদ দীর্ঘদিন থেকে ভারতে ‘কসাইয়ের’ কাজ করেন।

জিহাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছরের শুরুর দিকে যশোরের একটি মামলায় বাড়িতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। এর পর থেকে জিহাদ ও তাঁর বড় ভাই জাহেদ হাওলাদার পলাতক। কয়েক মাস পর ফোন করে জিহাদ তাঁর স্ত্রীকে জানান তিনি ভারতে রঙের কাজ করছেন। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ নেই। জিহাদের বিরুদ্ধে দীঘলিয়া থানায় ডাকাতি, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

একই দিন সেলেস্তা রহমানসহ তিন সন্দেহভাজনের আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ঢাকায় আসা কলকাতা পুলিশের সদস্যরাসহ দুই দেশের তদন্তকারীরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। 

এদিকে ভারতের পুলিশের পাশাপাশি এমপি আজীমের মরদেহ খুঁজতে অভিযানে নামে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। তারা হাতিশালায় একটি খালে মরদেহ উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে মরদেহ পাওয়া যায়নি। 

আরও পড়ুন:

টাইমলাইন: এমপি আজীম হত্যা
২৪ মে ২০২৪, ২২:৩৫
এমপি আজীম হত্যা: ঘটনাক্রম নিয়ে যা জানা গেল
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনের বিচার সামরিক আদালতে হবে। ৪৫ বছর পর আটক হয়ে সেনাবাহিনীর হেফাজতে তিনি।
কক্সবাজারে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফরকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী...
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র ইনডিপেনডেন্ট...
গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের অভিযোগে সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ...
সুফল পেয়ে ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত ক্যামেরা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। যান চলাচলের চারটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দাবি করে, সড়কে আরও দুটি অপরাধ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বারঘোরিয়া-বাদুরতলায় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।
এক বছর আগে মাইলস্টোন স্কুলের যে ভবনটিতে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে সেই ভবনটির কিছু নির্মাণক্রুটি ছিল। আর পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি ও তাঁর তদারকি কর্মকর্তার...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর