নেপালে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় পর্যটন খাতে ২৫ বিলিয়ন রুপির ক্ষতি হয়েছে। কেবল হিলটন হোটেলেই ক্ষয়ক্ষতি ৮ বিলিয়ন রুপি। হোটেলে ভাঙচুর-আগুনের কারণে অনেক বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। এতে মূল পর্যটন মৌসুম শুরুর ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেল দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটি।
নেপালে মোট পর্যটকের এক-তৃতীয়াংশই আসেন এই মৌসুমে। তবে এর মাঝেও পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা নেপালিদের।
দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের জেরে ৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ-সহিংসতায় উত্তাল হয়ে ওঠে হিমালয়ের দেশ নেপাল। একদিন পরই তা রূপ নেয় সরকার পতনের তীব্র আন্দোলনে। প্রবল জনরোষের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন কেপি শর্মা ওলি।
অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সহিংসতা চলে বিভিন্ন জায়গায়। বাদ যায়নি পর্যটন কেন্দ্র এবং হোটেল-মোটেল। হিলটনসহ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোটেলে আগুনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিদেশি পর্যটকরা হোটেল বুকিং বাতিল ও স্থগিত করেন।
দেশটির হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, ২০টির বেশি হোটেলে লুটপাট ও আগুন দেওয়া হয়েছে।
কাঠমান্ডু ছাড়াও পোখরা, ভৈরহওয়া, বিরাটনগর ও ধানগাধি শহরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিমালয়ান টাইমসের হিসাবে, পর্যটন খাতে ক্ষতি আনুমানিক ২৫ বিলিয়ন রুপি।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের স্থাপনা পোড়ানোর ছবি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও বড় ধাক্কার কারণ হতে পারে।
এর আগে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল দেশটির পর্যটন। ২০১৫ সালের ভূমিকম্প এবং করোনা মহামারির সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছিল নেপাল। সেই অভিজ্ঞতায় এবারও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা পর্যটন ব্যবসায়ীদের।
নেপালের জিডিপিতে পর্যটন শিল্পের অবদান ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন প্রায় ১৫ হাজার পর্যটক। নতুন করে লোকসান ঠেকাতে তাদের নিরাপত্তাসহ বিশ্বে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরাই এখন দেশটির সামনে চ্যালেঞ্জ।



