নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের হামলা ও লুটপাটের শিকার হয়েছে এক বাংলাদেশি পরিবার। গত মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ভাঙচুরের সময় এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নেপালে অবস্থানরত জাতীয় ফুটবল দলকে সহায়তা দিতে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। বিষয়টি কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার শিকার পরিবারটিকে পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আশ্রয় দেওয়া হয়। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংকটের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ৩০ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এবং ২০ জনকে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধারকৃতরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী।
মঙ্গলবারের বিক্ষোভে কাঠমান্ডুর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অগ্নিসংযোগ ও আরেকটি হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সেই হোটেলেই অবস্থান করছিল তিন সদস্যের বাংলাদেশি পরিবার। কর্মকর্তারা জানান, বিক্ষোভকারীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং জিনিসপত্র লুট করে নেয়। আতঙ্কে তারা প্রথমে পাসপোর্ট লুকানোর চেষ্টা করলেও পরে রুমে ঢুকে বিক্ষোভকারীরা সেগুলোও লুট করে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং অন্য একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করলেও পরিবারটি ভয়ে সেখানেও থাকতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে তাদের দূতাবাসে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে স্থানান্তর করা হয়।
এ নিয়ে নিজেদের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। ওই পোস্টে সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের একটি প্রতিবেদনের লিংক শেয়ার করা হয়েছে।
বর্তমানে নেপালে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ড়া প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওতে কাজ করছেন।
নেপালে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশি নাগরিককে হোটেল বা নিজ বাসায় নিরাপদে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক নেপাল ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদেরকে চলমান নিরাপত্তাজনিত কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ স্থগিত করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।



