নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির পদত্যাগের পর দেশটির অন্তর্বর্তী দায়িত্বে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে চাইছে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেশন জেডের (জেন জি) পক্ষে থাকা দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারির বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, এই দাবি নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সেনাপ্রধানের কাছে যাবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি রামান কুমার শর্মা এই তথ্য জানিয়েছেন। এরই মধ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ১৮–কে জানিয়েছেন, জেন জিদের আহ্বান তিনি অগ্রাহ্য করতে পারবেন না। তিনি দায়িত্ব নিতে রাজি।
সবকিছু ঠিক থাকলে নেপালের পরবর্তী সরকারপ্রধান হতে চলেছেন সুশীলা। তবে তাঁকে পরবর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে সেনা নেতৃত্ব মনে নেবে কিনা, সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার রাত থেকে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে নেপালি সেনাবাহিনী। বুধবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে অনলাইনে একটি ভার্চুয়াল সভা করে জেন জি বিক্ষোভকারীরা। নেপালি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণী এই সভায় অংশ নিয়েছিল। বিদেশে থাকা নেপালিরাও জুম কলে যোগ দেয় এবং তাঁদের মত জানায়।
বৈঠকে স্পষ্টভাবে বলা হয়, জেন জি আন্দোলনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং অরাজনৈতিক রাখতে হবে। তাই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হবে না। সুশীলা কার্কি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। সাবেক বিচারক এবং একজন নাগরিক কর্মী হিসেবে তাঁকেই এই ভূমিকার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি বলে মনে করেছে জেন জি।
আলোচনায় ছিল কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ এবং যুব নেতা সাগর ধকলের নামও। কিন্তু আন্দোলনকারীরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্কির মতো ব্যক্তিত্বই জনসাধারণের আস্থা অর্জন করতে পারবেন। কারণ তাঁর ভাবমূর্তি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ।



