তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির পদত্যাগের পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার এই খবর জানিয়েছে। এর আগে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ান অলি।
কয়েক বছর পর দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভ এক পর্যায়ে বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়, যাতে ৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়। ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। তবে অলির পদত্যাগের পর সহিংসতা কিছুটা কমে আসে।
নিহতদের মধ্যে ২১ জন বিক্ষোভকারী, নয়জন কারাবন্দী, তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৮ জন অন্যান্য ব্যক্তি ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌদেল এবং সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল–দুজনেই একজন সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিশেষজ্ঞের মতে, ‘জেন জি’ নামে পরিচিত আন্দোলনকারীরাই কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।
‘জেন জি’ আন্দোলনকারীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যার পর কার্কির নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। ৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কার্কি নেপালের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধান বিচারপতি। তিনি তাঁর সততা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিচিত।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার পর কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করেছে। দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে, রাস্তায় গাড়ি চলাচল করছে এবং পুলিশ আবার লাঠির পরিবর্তে বন্দুক ব্যবহার করছে। কিছু রাস্তা এখনো বন্ধ থাকলেও, রাস্তায় টহলরত সেনাসদস্যের সংখ্যা কমে এসেছে।
বিক্ষোভকালে নিহতদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।



