২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নিষিদ্ধ করেছে নেপাল সরকার। এ তালিকায় আছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্স, ইউটিউবসহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মসমূহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধ করতে নেপাল সরকার প্রণীত নতুন আইনে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কাঠমান্ডু।
নেপাল সরকার বলছে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘৃণা, গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই অপব্যবহার ঠেকাতেই নতুন আইন প্রণয়ন করেছে সরকার, যার অধীনে প্ল্যাটফর্মগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নেপালে সক্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বুধবারের (৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যে দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছে নিবন্ধন করার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। নির্দেশে এও উল্লেখ আছে যে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে একজন স্থানীয় যোগাযোগ প্রতিনিধি, একজন অভিযোগ ব্যবস্থাপক এবং স্ব-নিয়ন্ত্রণের (সেলফ রেগুলেশনের) জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তির নাম জমা দিতে হবে। অন্যথায়, দেশটিতে তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, টিকটক, ভাইবার, উইটক, নিমবাজ ও পোপ্পো লাইভ নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। তবে এই ৫টি প্ল্যাটফর্ম ছাড়া নিবন্ধন করেনি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্স ও ইউটিউবের মতো অনেক প্ল্যাটফর্মই। ফলে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে নিবন্ধন না করা প্ল্যাটফর্মগুলো।
উল্লেখ্য, দেশটির পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতির জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করায় তাই বিপাকে পড়েছেন নেপালি ব্যবসায়ীদের অনেকেই। পাশাপাশি নেপালের প্রবাসী জনগোষ্ঠী দেশে পরিবারের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপরই নির্ভরশীল। ফলে তাঁরাও বিপদে পড়েছেন। বলা বাহুল্য, দেশটির ৩ কোটি জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ অধিবাসীই ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
নেপাল সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছে নেপালের নাগরিকরা। বিশেষ করে নেপালের সাংবাদিক ও জেনারেশন জেড (জেন জি) প্রজন্ম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত দু’দিন ধরেই ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে নেপালে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে অ্যাক্সেস বন্ধ করার প্রতিবাদে এবং সরকারি দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলনে নেমেছে নেপালের নাগরিকরা, যাদের সিংহভাগই জেন-জি প্রজন্মের।
আজ সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীদের রুখতে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্টের দিকে এগোলে ব্যারিকেড দিতে বাধ্য হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ব্যারিকেড ভেঙ্গে সেখানে ঢুকে বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে বিক্ষোভকারীরা।
নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, সোমবার পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতে দেশটিতে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। তবে বেসরকারি সূত্র বলছে, নেপালে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১৬ জন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের বরাতে জানা গেছে যে, নেপালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের দেখা মাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।



