এবারের বাজেটেও রয়েছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ। তবে সে সুযোগ অতীতের মতো ঢালাও নয়, বাড়ানো হয়েছে করের হার। শুধু আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছর থেকে বিনা প্রশ্নে সেই সুযোগ রাখা হয়নি। তবে নির্ধারিত কর দিয়ে আবাসন খাতে এ সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে অর্থের উৎস সম্পর্কে যেকোনো সংস্থার প্রশ্ন করার সুযোগও রাখা হয়েছে। এলাকাভেদে আয়তন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিলেই টাকার উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে বলে ধরে নেবে এনবিআর। এ ছাড়া একই সুবিধা পেতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এলাকাভেদে প্রতি বর্গফুটে ৫০ থেকে ৯০০ টাকা কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘একই যুক্তিতে মোটামুটি সুযোগটা দেওয়া হয় সেটা মনে রাখতে হবে এটা অসাংবিধানিক ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এটা বৈষম্যমূলক এবং দুর্নীতি সহায়ক।’
সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশ থেকে পাচার করা টাকা ফেরত আনার সুযোগ দেওয়া হলেও কেউ এই সুযোগ নেননি। এর এক বছর পরেই আবারও কালোটাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, কালো টাকা বিনিয়োগের এ সুযোগ রাখায় সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হবে।
অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেন, ‘আবাসন খাতের কথা বলি অথবা বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করলে কালো টাকা সাদা হবে, সেটার সাফল্যের হার যেটা দেখেছি সেটা কিন্তু উৎসাহ ব্যঞ্জক না। অথচ অন্যদিকে কালো টাকার প্রক্রিয়াগুরো বন্ধ করার প্রক্রিয়াগুলো বন্ধ করার কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আমার কাছে মনে হয় সেটাই বেশি জরুরি ছিল।’
অর্থ উপদেষ্টা বাজেট বক্তব্যে কোন ঘোষণা না দিলেও অর্থ বিলে তা উল্লেখ রয়েছে।



