আলোচনায় থাকলেও এবারের বাজেটে বাড়ছে না ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা। এছাড়া কিছু পণ্যে কর বাড়ানোর প্রস্তাবসহ ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহারে চাপ বাড়তে পারে স্বল্প আয়ের মানুষের। নতুন করে শুল্ক বাড়ানো হলে বাজারে পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বাজেটের মূল লক্ষ্য রাজস্ব আদায় বাড়িয়ে ঘাটতি কমানো এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ করা। কর বাড়ানোর প্রস্তাব এবং ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহারের কারণে সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ী মহলের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
রাজধানীর একজন বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা চাই নাগরিক ফ্রেন্ডলি একটা বাজেট হোক। আমাদের সামর্থ্যের মধ্যেই যেন সব কিছু কিনতে পারি। দ্রব্যমূল্যটা যেন মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে। সমাজে কয়েক স্তরের মানুষ থাকে, প্রত্যেকের কথা চিন্তা করে বাজার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা কর্তৃপক্ষের একান্ত দায়িত্ব।’
প্লাস্টিকের তৈরি টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, হাইজেনিক সামগ্রী এবং টয়লেট সামগ্রীর ভ্যাট দ্বিগুণ হচ্ছে। সিমেন্ট, এলইডি লাইট, সিগারেট ও অটোরিকশার মত কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, আয়রনসহ নানা গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদনে ভ্যাট সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে পণ্যমূল্য বাড়লে, চাপ পড়বে ভোক্তার ওপর।
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা তো কিনে খেতে পারছি না। চাইলেও পারছি না। সব কিছুর দাম বেড়েছে, দাম তো আর কমে না। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ভ্যাট পলিসি যেটা ইমপোজ করা হয়, সেটা কন্ট্রোল করা উচিত।’
এমনিতেই দীর্ঘ দুই বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে এখনও ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষ। তাই, বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ রাখার তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেন, ‘বিভিন্ন পণ্যের উপরে আমদানি শুল্ক কিন্তু এখনও উচ্চ। অথবা নানা ধরনের কর আছে। সেগুলো কিভাবে কমিয়ে বাজারে পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়, এ সবকিছুর একটি সমন্বিত উদ্যোগ থাকতে হবে। এ উদ্যোগ, আমি মনে করি সেভাবে এখনও চোখে পড়েনি।’
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অপ্রত্যক্ষ যে-সব শুল্ক আছে, সেটা আমদানি শুল্কও হতে পারে, এগুলোতে হাত না দেওয়া।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন করে শুল্ক বাড়ানো হলে বাজারে পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তাদের।



