দেশে গত ৫৪ বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে হাজার গুণেরও বেশি। এবছর প্রথমবারের মতো বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। আজ সোমবার বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন।
নতুন বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনা হচ্ছে, তবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া বাজেট ঘাটতি হ্রাস এবং রাজস্ব আয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৩টি বাজেট পেশ করা হয়েছে। এই সময়ে ১২ জন অর্থমন্ত্রী ও ২ জন অর্থ উপদেষ্টা মিলে মোট ১৪ জন বাজেট উপস্থাপন করেছেন। সাধারণত অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপন করলেও ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সামরিক প্রশাসক এমনকি রাষ্ট্রপতিও বাজেট ঘোষণা করেছেন।
১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের প্রথম বাজেট ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ পরপর তিনবার বাজেট পেশ করেন, যার সর্বশেষ বাজেটের আকার ছিল ১,০৮৪ কোটি টাকা।
১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সরকারের বাজেট ছিল ১,৯৮৯ কোটি টাকা। এরপর ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন এইচ এম এরশাদ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, যার আকার ছিল ৪,৭৩৭ কোটি টাকা।
১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে শাহ এ এম এস কিবরিয়া বাজেট উপস্থাপন করেন এবং টানা ৬টি বাজেট পেশ করেন।
বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ২০০২-০৩ অর্থবছরে ৪৪,৮৫৪ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। পরের বছরই বাজেটের আকার পেরিয়ে যায় ৫০ হাজার কোটি টাকা (৫১,৯৮০ কোটি)। তিন মেয়াদে তিনি সর্বমোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেন, যা দেশের ইতিহাসে একটি রেকর্ড।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর, অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা ১০ বছর বাজেট পেশ করেন এবং সাইফুর রহমানের সমান ১২টি বাজেট দেওয়ার রেকর্ড গড়েন।
২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের বাজেট প্রথমবারের মতো পাঁচ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করে (৫,২৩,১৯০ কোটি টাকা)। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল মোট ৫টি বাজেট পেশ করেন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের ৫৩তম বাজেট পেশ করেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, যার আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা।
এবার অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ তার প্রথম বাজেট পেশ করছেন। বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজেট ঘাটতি হ্রাস এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কমিয়ে আনা হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও।



