রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯। ফায়ার সার্ভিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এছাড়াও আরও অন্তত ৪৮ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। সোমবার রাজধানীর বার্ন ইন্সটিটিউটে এক ব্রিফিংয়ে বিশেষ সহকারী জানান, বার্ন ইন্সটিটিউটে বর্তমানে ৭০ জন দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘বড় অংশের ইনহেলেশন ইনজুরি। তাদের ঝুঁকির মাত্রা নির্ণয়ে সময় লাগবে। ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সব হাসপাতালে যথেষ্ট পরিমাণে মজুদ আছে।’
এ সময় সাধারণ মানুষকে অযথা হাসপাতালে ভিড় না করতে অনুরোধ জানান তিনি। বিশেষ সহকারী বলেন, ‘এই মুহূর্তের রক্তের প্রয়োজনীয়তা নেই। আপনারা জানেন, বার্নের রোগীদের রক্ত প্রয়োজন নেই। যারা রক্ত দিতে ইচ্ছুক তারা কাল সকাল ৮টায় রক্ত দানে আসবেন। হটলাইনে যোগাযোগ করবেন। অযথা ভিড় করবেন না, সংক্রমণ এড়াতে। বার্নের বাহিরে ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে বার্নের বাহিরে। অযথা ভিড় করলে চিকিৎসাধীনদের সমস্যা হবে।’
এদিকে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬৪ জন আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে সংস্থাটির এক বিজ্ঞপ্তিতে।
আইএসপিআর বলছে, আহতদের মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮ জন, বার্ন ইনস্টিটিউটে ৭০, সিএমএইচে ১৪, উত্তরার লুবনা জেনারেল হাসপাতালে ১১, উত্তরা আধুনিক হসপিটালে ৬০ এবং উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে আহত হয়ে ভর্তি আছেন ১ জন।
সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পর দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বিধ্বস্ত হয় বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ।
ফায়ার সার্ভিস এক খুদে বার্তায় জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের খবর পায়। ১টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উত্তরা, টঙ্গী, পল্লবী, কুর্মিটোলা, মিরপুর, পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের মোট ৮টি ইউনিট কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনায় হতাহতের শঙ্কা বাড়তে পারে। চারজনকে উদ্ধার করে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিমান বিধ্বস্তের সঙ্গে সঙ্গেই একটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় এবং আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।



