উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে ক্লাস ফোরের শিক্ষার্থী সামিহা আক্তার সারা ও তার বাবা। প্রতিদিন মেয়েকে ক্লাসের সামনে নিতে গেলেও সেদিন মেয়েকে গেটের কাছে আসতে বলায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান বলে জানান সাইফুর রহমান। রয়টার্সকে জানিয়েছেন সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিহা আক্তার সারা। গত সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোনের ক্যাম্পাসে যে ভবনটিতে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়, সেখানেই ছিল সারার ক্লাস। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কিছুক্ষণ আগেই ক্লাস থেকে বেরিয়ে স্কুল গেটে যায় সে।
ক্লাস ফোরের শিক্ষার্থী সামিহা আক্তার সারা বলেন, ‘আমি যখন গেটের কাছে পৌঁছাই তখন বিকট শব্দ শুনি আমার ক্লাসরুমের কাছে। । আমার অনেক বন্ধু তখন ক্লাসের ভেতরে ছিল। আবার অনেকে বের হয়ে গিয়েছিল আগেই।’
স্কুলে যুদ্ধ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিকট শব্দ শুনে সারার বাবা সাইফুর রহমান দেখেন কালো ধোয়ার কুণ্ডলী।
ভয়াবহ সে দিনের কথা তুলে ধরে সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমি সবসময় ওর ক্লাসের কাছে গেলেও, সেদিন রাস্তা খারাপ থাকায় ওকে গেটের কাছে আসতে বলি। ওকে যখনই গেটের কাছে দেখলাম একটা বিস্ফোরণের শব্দ পেলাম। দেখি কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে। তখন খেয়াল করে দেখি আমার মেয়ে যেখানে ক্লাস করে সেখানেই প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়েছে। আমি স্তম্ভিত হয়ে মেয়েকে নিয়ে দৌড় দেই।’
গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে স্কুল ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। যে ভবনে এটি বিধ্বস্ত হয় সেখানে তখন বহু শিক্ষার্থী নিজ নিজ ক্লাসে ছিল। নিহত অন্তত ৩২ জন, যার বেশিরভাগই শিশু। এ ঘটনায় আহত দেড় শতাধিক। হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সাথে লড়ছে অনেক শিশু।



