উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মৃত্যু বড় বোন নাজিয়ার মৃত্যুর পর তার ছোট ভাইয়েরও মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফি। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
এর আগে সোমবার রাত ৩টার দিকে মারা যায় নাফির বড় বোন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজিয়া। তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। নাজিয়া ও নাফি বাবা-মায়ের সঙ্গে উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় বসবাস করত। দুজনেই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিল।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান রাতেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উত্তরা বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ শিশু নাফি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর আগে তার বোনও মারা যায়।
এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত বার্ন ইনস্টিটিউটে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটেও মারা গেছে এক শিক্ষার্থী।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে মারা যান মাইলস্টোনের শিক্ষিকা মাসুকা, যিনি গুরুতর দগ্ধ ছিলেন। ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যায় ৯ বছরের আরেক শিশু শিক্ষার্থী বাপ্পি, যার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে আরও চার শিক্ষার্থী মারা যান। তারা হলেন- এরিকসন (দগ্ধ ১০০%), আরিয়ান (৮৫%), নাজিয়া (৯০%) এবং সায়ান ইউসুফ (৯৫%)।
এছাড়া প্রথমদিকে আহত হয়ে মারা যান অষ্টম শ্রেণির তানভীর আহমেদ, সপ্তম শ্রেণির আফনান ফাইয়াজ, প্রাইমারি সেকশনের প্রধান কো-অর্ডিনেটর মাহেরীন চৌধুরী এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ সামিন।
এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে ক্রমাগত। হাসপাতালে ভর্তি অনেকেই এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। দগ্ধদের সিংহভাগই শিশু শিক্ষার্থী হওয়ায় পুরো দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।



