রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম মারা গেছেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএসএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পর দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজেআই মডেলের প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও আইএসপিআর জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা ১৬৪।
এছাড়াও আরও অন্তত ৪৮ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। সোমবার রাজধানীর বার্ন ইন্সটিটিউটে এক ব্রিফিংয়ে বিশেষ সহকারী জানান, বার্ন ইন্সটিটিউটে বর্তমানে ৭০ জন দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আইএসপিআর বলছে, আহতদের মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮ জন, বার্ন ইনস্টিটিউটে ৭০, সিএমএইচে ১৪, উত্তরার লুবনা জেনারেল হাসপাতালে ১১, উত্তরা আধুনিক হসপিটালে ৬০ এবং উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে আহত হয়ে ভর্তি আছেন ১ জন।
সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পর দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বিধ্বস্ত হয় বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ।
ফায়ার সার্ভিস এক খুদে বার্তায় জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের খবর পায়। ১টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উত্তরা, টঙ্গী, পল্লবী, কুর্মিটোলা, মিরপুর, পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের মোট ৮টি ইউনিট কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনায় হতাহতের শঙ্কা বাড়তে পারে। চারজনকে উদ্ধার করে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিমান বিধ্বস্তের সঙ্গে সঙ্গেই একটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় এবং আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।



