৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। টানা ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
জাকসুতে এবার আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ মিলে মোট সাতটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এরমধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলগুলো হলো ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল, ছাত্রশিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ–সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম।
আংশিক প্যানেল দিয়েছে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ। এ ছাড়া অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন ৯ জন প্রার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে লড়ছেন ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৫টি পদে লড়ছেন ১৭৭ জন প্রার্থী।
২১টি হল সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। একেকটি হলে পদসংখ্যা ১৫। ২১টি হল সংসদে মোট পদ ৩১৫টি। এতে ৪৪৭ জন প্রার্থী হয়েছেন। ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী নেই। একজন করে প্রার্থী রয়েছে ৬৭টি পদে। সে হিসেবে মাত্র ২৪টি পদে ভোট হবে।
দশমবারের মতো হতে যাওয়া এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৮৪৩। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ১১৫, ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮। একজন ভোটার ভোট দেবেন ৪০টি করে; কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫টি, হল সংসদে ১৫টি পদে।
নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে ১৩ হাজার ৩০০টি। ভোটগ্রহণের জন্য ২১টি কেন্দ্রে বুথ থাকবে ২২৪টি। ২১ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৬৭ জন পোলিং কর্মকর্তা ও ৬৭ জন সহাকারী পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
জানা গেছে, কেন্দ্রের নিরাপত্তা জন্য ৮০টির মতো সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এসব সিসি ক্যামেরা দিয়ে কেন্দ্রের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এদিকে, ভোটগ্রহণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ক্যাম্পাসে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।



