অনিয়মের অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোট চলাকালীন সময়েই এ ঘোষণা আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হলে এক ব্রিফিংয়ে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী ভোট বর্জনের এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আনেন।
বৈশাখী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ফজিলাতুন্নেছা হলের ফ্লোরে ব্যালট পড়ে ছিল। আরও কয়েকটি হল থেকেও আমাদের পোলিং এজেন্টরা একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে। শিবিরের এজেন্টরা সব ভোটকেন্দ্রে ঢোকার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আমাদের পোলিং এজেন্টরা ঢোকার আগেই ভোট শুরু হয়ে যায়। এটা তো স্পষ্ট—এখানে কারচুপি হয়েছে। একটি নির্বাচনে এ রকম হতে পারে না। এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আমরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলাম।’
৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাকসুর এই নির্বাচন। এতে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ মিলে মোট সাতটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলগুলো হলো—ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল, ছাত্রশিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ–সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম।
আংশিক প্যানেল দিয়েছে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ। এছাড়া অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন ৯ জন প্রার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে লড়ছেন ১০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের মোট ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৭ জন প্রার্থী।
ভোটের শুরু থেকেই শিবির ও ছাত্রদলের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন।
দুপুর ১টায় ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন। সে সময় তিনি কারচুপির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, শিবিরের জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ছাত্রদল কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলছে।



