জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে নয়টি অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে ছাত্রদল। ভোট বর্জনের ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই চিঠি দেয় সংগঠনটি।
এতে বলা হয়, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণতন্ত্রের এই চর্চাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্যানেল ঘোষণা করে। আমরা আশা করেছিলাম, ফ্যাসিবাদী আমলে যে গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়েছে তা আবার পুনরুজ্জীবিত হবে। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চেয়েছিলাম। কিন্তু আজকের ভোট গ্রহণের সময় বিভিন্ন অসঙ্গতি আমাদেরকে হতাশ করেছে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে জেতানোর জন্য প্রশাসন ‘ফ্যাসিবাদ-স্টাইলে’ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে।
চিঠিতে তুলে ধরা নয়টি অসঙ্গতি হলো—
১। যথাসময়ে ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়া।
২। প্রার্থীদেরকে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করতে দেওয়া হয়নি।
৩। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে ভোট গ্রহণকালে শিবির-সমর্থিত প্যানেল ভোটারদের হাতে লিফলেট বিতরণ করেছে।
৪। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে জাল ভোট দেওয়া ও ভিপি প্রার্থীকে হেনস্তা করা।
৫। কিছু কেন্দ্রে ভোট গ্রহণকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় একটি মহল ভোটে কারচুপির মহোৎসবে মেতেছে।
৬। কিছু কেন্দ্রের ভোটার-অনুপাতে বুথের সংখ্যা কম হওয়ায় ভোটারদের ভোগান্তি হয়েছে।
৭। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে অমোচনীয় কালি ব্যবহার না করায় একই ব্যক্তি একাধিক ভোট দিতে পেরেছে।
৮। ভোটার তালিকায় প্রার্থীদের ছবি না থাকায় একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দিয়েছে।
৯। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদে তিন জন কার্যকরী সদস্যকে ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যালটে একজনের নাম উল্লেখ ছিল।
এর আগে, অনিয়মের অভিযোগ তুলে জাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোট চলাকালীন সময়েই এ ঘোষণা আসে।
এক ব্রিফিংয়ে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আনেন।
বৈশাখী বলেন, “আমরা দেখেছি, ফজিলাতুননেসা হলের ফ্লোরে ব্যালট পড়ে ছিল। আরও কয়েকটি হল থেকেও আমাদের পোলিং এজেন্টরা একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে। শিবিরের এজেন্টরা সব ভোটকেন্দ্রে ঢোকার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আমাদের পোলিং এজেন্টরা ঢোকার আগেই ভোট শুরু হয়ে যায়। এটা তো স্পষ্ট—এখানে কারচুপি হয়েছে। একটি নির্বাচনে এ রকম হতে পারে না। এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আমরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলাম।”



