জমে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। তবে অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীরা বলছেন, তফসিল ঘোষণার আগেই বহিরাগতদের নিয়ে সমাগম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছেন অনেক প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন বলছে, আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর ক্যাম্পাস। চলছে প্রচার-প্রচারণা।
কয়েকটি সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, বহিরাগতদের পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন অনেকে।
জাবি শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জল বলেন, ‘২৫ জনের বেশি একসাথে প্রচারণা করা যাবে না, তবে আমরা দেখছি কিছু কিছু প্রার্থী ২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিয়েও প্রচারণা চালাচ্ছেন।’
জাবি স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মাহফুজুল ইসলাম মেঘ বলেন, ‘আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা আছে—শুধুমাত্র শিক্ষার্থী ব্যতীত অন্য কেউ এই নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু আমরা শিক্ষার্থী ছাড়াও অনেককে নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখছি।’
জাবি স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় যে অর্থে পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, অনেককে দেখছি তার চেয়ে বেশি অর্থ খরচ করছে।’
নির্বাচন কমিশন বলছে, এরই মধ্যে আচরণ বিধিভঙ্গের কিছু মৌখিক ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেয়েছেন। যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘যে অভিযোগগুলো উঠছে যেগুলো যাচাই-বাছাই করে অচরণবিধি ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
জাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে ১০ জন, জিএস পদে ৯ জনসহ মোট প্রার্থী ১৭৯ জন। ভোট আগামী ১১ সেপ্টেম্বর।
এদিক, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য-২৪ পাদদেশে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদি হাসান ও জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল জয়লাভ করলে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও গবেষণা, শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়াসহ ৮টি পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।



