জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে একই নামের অন্য একজনের ছবি সম্বলিত সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। এতে ওই শিক্ষকের পরিবার এবং যার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তিনি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আজ শুক্রবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন জাকসু নির্বাচন কর্মকর্তা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস। দায়িত্ব পালনকালে সকাল ৯টার পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মারা যান ওই শিক্ষক।
এদিকে এই ঘটনার সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে দেশের বেশ কয়েকটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম। কিন্তু এসব প্রতিবেদনে ওই শিক্ষকের পরিবর্তে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে কর্মরত জান্নাতুল ফেরদৌস অনন্যার ছবি প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন তিনি। তবে তিনি বিষয়টি জানানোর পর কয়েকটি গণমাধ্যম তাঁর ছবি সরিয়ে নিয়েছে।
বিষয়টি নজরে আসার পর জান্নাতুল ফেরদৌস অনন্যা ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে বলেন, ‘আজ আমার একটা ছবি দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নিউজ হয়েছে। বিভিন্ন পোর্টালে আমার ছবি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। সাংবাদিকতা শুধু করলেই হয় না। সংবাদ সংগ্রহের বস্তুনিষ্ঠতা থাকতে হবে।’
অনন্যা বলেন, ‘এসব ঘটনার কারণে সংবাদ মাধ্যমগুলোর ওপর থেকে মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। কিছু নামকরা সংবাদমাধ্যমও কোনো যাচাই-বাছাই না করে এই ছবি ব্যবহার করেছে। বিষয়টি খুব দুঃখজনক।’
এ নিয়ে তিনি ফেসবুকেও পোস্ট করেন। সেখানে অনন্যা লেখেন, ‘একজন সংবাদকর্মী হয়ে আমি নিজেই অপসাংবাদিকতার শিকার। আমি নিজে খুবই বিব্রত এবং বিরক্ত। আমি শুধু ভাবছি যে শিক্ষক মারা গেলেন উনার পরিবারের কথা। তাদের কেমন লাগছে এই সংবাদ দেখে। উনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’
অনন্যা বলেন, ‘এই সংবাদ দেখে আমার শুভানুধ্যায়ী অনেকে আমাকে ফোন দিয়েছেন, খুদেবার্তা দিয়েছেন। সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’


জাকসু নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকের মৃত্যু
