গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ভয়, ক্ষুধা আর অনিশ্চয়তার মাঝেই কাটছে গাজাবাসীর প্রতিটি মুহূর্ত। টানা দুই বছরের যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের মতোই ঘরে ফিরতে পারেননি ৪ সন্তানের মা, আমনা আবু তুয়াইমা। ছেঁড়া তাঁবুর নিচে চলছে তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
গাজায় যুদ্ধবিরতির পর যখন অনেক ফিলিস্তিনি ধীরে ধীরে নিজেদের বিধ্বস্ত বাড়িতে ফিরেছেন, তখনও ফিরতে পারেননি ৪ সন্তানের মা আমনা আবু তুয়াইমা।
আমনার বাড়ি পড়েছে যুদ্ধবিরতির সীমারেখার হলুদ লাইনের ওপারে, যেখানে এখনো অবস্থান করছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাই নিজের বসতভিটায় পা রাখার সুযোগ এখনো হয়নি এই অসহায় মায়ের।
যুদ্ধের সময় বহুবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আমনা। খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চল থেকে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন জীর্ণ-ছেঁড়া তাঁবুতে। প্রতিটা দিন কাটছে বেঁচে থাকার নতুন লড়াইয়ে।
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আমনা আবু তুয়াইমা বলেন, ‘আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। যুদ্ধবিরতি হলেও বাড়ি ফিরতে পারিনি। এই তাঁবুটা ছিঁড়ে গেছে। খুব কষ্টে জীবন কাটছে। পানি পাওয়ার জন্য লাইন, চিকিৎসার জন্য লাইন—আমাদের পুরো জীবনটাই এখন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা। অনেক সময় চিকিৎসাও পাওয়া যায় না।’
যুদ্ধ থেমেছে, কিন্তু ভয় কাটেনি। প্রতিটি রাত কাটে আশঙ্কায়, আবার যেন নতুন করে যুদ্ধ শুরু না হয়।
আমনা আবু তুয়াইমা বলেন, ‘আমরা ভয় পাচ্ছি, যুদ্ধ আবার ফিরে আসবে না তো। এখনো হামলা চলছে। কখনো কখনো হামলা এতটাই ভয়াবহ হয়, মনে হয় আবার আগের মতো সব শুরু হবে। যুদ্ধবিরতি আগেও হয়েছিল, কিন্তু বেশিদিন টেকেনি। আমরা এখন একেবারেই ক্লান্ত, আর সহ্য হয় না।’
গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামিয়েছে বটে, তবে শান্তি এখনও দূরস্বপ্ন। একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে ইসরায়েল ও হামাস, যা নতুন করে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে গোটা উপত্যকায়।



