সম্প্রতি ইরানে চালানো বোমা হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমায় আমেরিকার চালানো পরমাণু বোমা হামলার সঙ্গে তুলনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আজ বুধবার সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি। কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেন, দুটো হামলাই যুদ্ধ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। ন্যাটোর সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘হিরোশিমার উদাহরণ আমি দিতে চাচ্ছি না। আমি চাচ্ছি না নাগাসাকির উদাহরণ দিতে। কিন্তু দুটো হামলাই কিন্তু যুদ্ধ বন্ধ করেছিল। এবারও ইরানে হামলা যুদ্ধ বন্ধ করে দিল। এই কাজ না করলে তারা এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যেত।’
এমন এক সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন, যখন তিনি আগেই জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন হামলায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি কয়েক দশক পিছিয়ে গেছে। যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সামান্য হোঁচট খেয়েছে মাত্র, পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। কেবল কয়েক মাসের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গেছে।
তবে ট্রাম্প এই গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করেছেন। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে নিখুঁতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং তা ধ্বংস হয়েছে।
মার্কিন হামলার কারণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কতটা পিছিয়েছে বলে মনে করেন–এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘মূলত কয়েক দশক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি এটি পেলে নরকে যেত....সবশেষ তারা যা চেয়েছিল সেটা হল সমৃদ্ধকরণ। ওই আঘাত (ইরানে হামলা) যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছে।’
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আসলেই জানে না। ইরানে হামলায় তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
এ নিয়ে ইসরায়েল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে দাবি করে ট্রাম্প জানান, সেই প্রতিবেদনেই জানা যাবে আসলে কী পরিমাণ ক্ষতি ইরানের হয়েছে।



