দুই বছরের ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি হ্রাস পেয়েছে। মাথাপিছু আয় পৌঁছেছে বিশ্বের সবচেয়ে নিম্নস্তরে। এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানায় যে, ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক পতনের কবলে রয়েছে গাজা, যা উপত্যকার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ৭০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সংকটে পড়েছে গাজার অর্থনীতি। ইসরায়েলি আগ্রাসনে গত দুই বছরে অঞ্চলটির জিডিপি হ্রাস পেয়েছে ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত। একইসাথে মাথাপিছু আয় পৌঁছেছে নিম্নস্তরে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার এক প্রতিবেদন বলছে, গাজার অর্থনীতি এমন এক মন্দার মধ্যে পড়েছে যা ১৯৬০ সালের পর বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ১০টি অর্থনৈতিক পতনের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
গাজার এই পরিস্থিতিকে রেকর্ডের সবচেয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। প্রায় দুই দশক বাণিজ্য, চলাচল এবং প্রবেশাধিকারে ইসরায়েলি সীমাবদ্ধতায় অঞ্চলটি সম্পূর্ণরূপে বহির্বিশ্বের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দেওয়া রাজস্ব ইসরায়েল আটকে রাখায় সংকট আরও গুরুতর হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করেছে জাতিসংঘ। দুই বছরের আগ্রাসনে গাজায় ৭০ শতাংশ স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সংস্থাটির অনুমান, শুধুমাত্র গাজার পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের খরচ হবে ৭ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।
প্রচুর সহায়তা থাকলেও, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পূর্ববর্তী জিডিপি পুনরুদ্ধার করতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। এমনকি ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি বিধিনিষেধ ফিলিস্তিনি অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার ফাঁদে ফেলে দেবে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘের এই সংস্থা। বর্তমানে গাজায় বেকারত্ব পৌঁছেছে ৮০ শতাংশে। সেইসাথে দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছেন উপত্যকার ২৩ লাখ বাসিন্দা।
এদিকে, অর্থনৈতিক মন্দার মুখে, চলাচল ও প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা এবং চাকরির পতনের কারণে মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পশ্চিম তীরও। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক ও বৃহৎ পরিসরে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।



