আগামী কয়েকদিনের মধ্যে গাজা ও মিশরের সীমান্তবর্তী রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিরা যাতে মিশর হয়ে গাজা ত্যাগ করতে পারে এ জন্যই এ ব্যবস্থা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাটকে উদ্ধৃত করে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা অনুমোদনের পর মিশরের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম চালানো হবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, গত জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতির সময় যেভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল, এবারও একইভাবে করা হবে।
অবশ্য মিশর বলছে, এ কার্যক্রম সম্পর্কে তারা জানে না এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ও করছে না।
এক মিশরীয় কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বিবিসি বলছে, ক্রসিং খোলার বিষয়ে যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায় তা হবে দুই দিকেই। অর্থাৎ গাজায় প্রবেশ ও গাজা থেকে বের হওয়া। আর এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ীই পরিচালিত হবে।
ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনায়, দুই দিক দিয়েই রাফাহ ক্রসিং খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্ত পথটি কার্যত বন্ধই আছে। এর আগ পর্যন্ত এটি ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের বের হওয়ার প্রধান পথ এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, অন্তত সাড়ে ১৬ হাজার গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনির জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার প্রয়োজন। তারা বর্তমানে গাজা থেকে সরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র ২৩৫ জন, যাদের প্রায় সবাই শিশু, অন্য সীমান্ত দিয়ে গাজা ছাড়তে পেরেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু।



