সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পরও থামছে না সহিংসতা ও প্রাণহানি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সরকারের পতন হলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে।
তবে এই পরিবর্তন দেশটিকে স্থিতিশীলতার দিকে নেবে, নাকি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে—তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন ও সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রাণহানি ঠেকানো যাচ্ছে না।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো অ্যালেক্স ভাটাঙ্কা বলেন, ‘ইরানি সরকার চায় না বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার ছবি ও তথ্য বাইরে ছড়িয়ে পড়ুক। এটি মূলত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। কারণ এসব তথ্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়ে যাবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এবারের পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন ও গভীর। এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জবাবে ট্রাম্পকে ‘অত্যাচারী’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এখন শুধু অভ্যন্তরীণ সংকটেই নয়, বরং বিদেশি শত্রুর সরাসরি চাপের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পতনের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান ব্যবস্থার পতন হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলের সামরিক প্রভাব আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে মিশর, ইরাক ও সিরিয়ার মতো দেশগুলো ইসরায়েলের বিপরীতে যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে এসেছে, ইরানের পতন সেই সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে।
বর্তমানে ইরান রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। তবে ভবিষ্যতে ইরানে নতুন কোনো সরকার ক্ষমতায় আসলে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি নতুন মোড় নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন ইরানকে স্থিতিশীল করবে, নাকি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ বা অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।


বিক্ষোভে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে ইরান সরকার, মসজিদে আগুন
ইরানে বিক্ষোভ: সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ইসরায়েল
