গাজায় সামরিক যুদ্ধ থামলেও, অর্থনৈতিক যুদ্ধের সম্মুখীন উপত্যকাবাসী। নগদ অর্থের ঘাটতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে সেখানকার ব্যাংকিং খাত। এ অবস্থায় কেউ কেউ কাঁটা-ছেঁড়া টাকা মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করছে। কেউবা পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে মেটাচ্ছেন নিত্যপণ্যের চাহিদা।
গাজায় থেমেছে বন্দুকের শব্দ, আকাশে আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে না। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হলেও, উপত্যকার মানুষের জীবন এখনো এক অন্তহীন সংগ্রামের নাম। যুদ্ধবিরতির পর যে শান্তির আশায় বুক বেঁধেছিল গাজাবাসী, সেই আশার জায়গা নিয়েছে অস্থিরতা, অভাব ও অনিশ্চয়তা।
নগদ অর্থের ঘাটতি ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন সংকট ডেকে এনেছে। হাতে সামান্য কিছু টাকা থাকলেও তা খরচ করতে পারছে না গাজাবাসী। অনেক ক্ষেত্রে সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীদের হাতে পড়লে সেই অর্থও আত্মসাৎ হচ্ছে।
১৬ অক্টোবর, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ছয় দিন পর পুণরায় চালু হতে শুরু করেছে উপত্যকার ব্যাংকগুলো। তবে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ালেও হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে মানুষদের।
স্থানীয় এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘এখানে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। অনেকে সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও নিজের পালা পায় না। হয়তো আমিও এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত কোনো সুযোগ পাবো না।’
কেউ কেউ ডিম বা চিনি মতো ছোটখাটো জিনিসও ব্যাংক অ্যাপের মাধ্যমে কেনাকাটা করছে। তবে বিক্রেতারা অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, নগদ অর্থের এই সংকটের মধ্যে কিছু মানুষ নিজের জীবিকা অর্জনের সুযোগ তৈরি করেছে। করছেন কাটা-ছেঁড়া নোট মেরামতের কাজ।
এদেরই একজন বলেন, ‘আমার দিনে প্রায় ৯ ডলারের মতো আয় হয়। তারপর সেই টাকায় একটা পাউরুটি, রাতের খাবারের জন্য কিছু খাবার কিনি। শুধু বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু দরকার।’
নগদের ঘাটতি এমন এক সংকট তৈরি করেছে, যা গাজার মানুষদের জন্য আরও দুঃসহ হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বেচা-কেনায় পণ্য বিনিময় পদ্ধতিও অবলম্বন করছে।



