মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি, কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে বেশকিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যম। এমন ঘটনা সত্য হলে ইরানের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে বেশ উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, ইরানের কার্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম এক দশক পিছিয়ে গেছে।
কিন্তু কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলার পর ইরানের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা কি আরও বেড়ে যাবে? বিশেষ করে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মেরামত এবং নিহত পরমাণু বিজ্ঞানীদের জায়গায় নতুন কাউকে নিয়োজিত করার পর।
হামলার পর ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। এই তথ্য জানতে বেশ সময় লাগবে। ইসরায়েল দাবি করছে, হামলার আগে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি ছিল। আর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা পরমাণু অস্ত্র বানানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ কারণে ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে। হামলার পর ক্ষতির পরিমাণ জানতে পারলে এই দাবি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
এরই মধ্যে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের পরমাণু কার্যক্রম চলবে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আর পরমাণু কার্যক্রম চালাতে পারবে না। ইরানের নেতারা এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছেন যে, যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। আমেরিকা হামলা চালিয়েছে, ইসরায়েল তো চালিয়েছেই, এবার পরবর্তী হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য পরমাণু অস্ত্র বানানোর একটা সুযোগ হয়েছে।
এখানে আরেকটি দেশের কথা উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, উত্তর কোরিয়া। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে তাদের পরমাণু কার্যক্রমের ওপর বেশ চাপ ছিল। বলা হচ্ছিল, এই কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য হামলা চালানো হতে পারে উত্তর কোরিয়ায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখানে হামলা হয়নি।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করতে যাচ্ছে ইরান। এ বিষয়ে আজ বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে আয়োজিত ভোটে একটি বিল পাস হয়েছে। এমনকি দেশটি পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ চুক্তি এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে বলেও গুঞ্জন চলছে।
ইরানের তিন পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলার পর জানা গেছে, সেখানে নেই ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম। তাহলে কি হামলার আগেই ওই ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলে তেহরান? এই প্রশ্নে চিন্তিত হোয়াইট হাউস।
যুদ্ধের আগেই জানা গিয়েছিল, ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে ইরান। ৯০ শতাংশ হলেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি সম্ভব। এই আশঙ্কাতেই ইসরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে হামলা চালায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেশে। এই ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের এবার কী হবে–তা নিয়েও এখন একটা ধোয়াশা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি যদি বহাল থাকে এবং দুই পক্ষই এই চুক্তিকে স্বাগত জানায়, তাহলে বৈশ্বিক কূটনীতিকরা সমঝোতা আবার শুরুর চেষ্টা করতে পারেন। তবে এই সমঝোতা নিয়ে আলোচনা বেশ কঠিনই হবে এখন। কেননা আমেরিকা বলে আসছে, ইরানের মাটিতে যেন কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না হয়। এ নিয়ে প্রকাশ্যেই কথা বলে আসছে তারা। তবে ইরানও প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না।
এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের বসে ফের আলাপ করার সময় এসেছে। আশা করছি এবার শান্তির পথে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।’
হুগো ব্যাচেগা: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি
(হুগো ব্যাচেগার এই বিশ্লেষণটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত হয়েছে। লেখাটির গুরুত্ব বিবেচনায় ইংরেজি থেকে অনুবাদ করে প্রকাশ করা হলো।)



