জোটসঙ্গীদের চাওয়া কি মোদি পূরণ করবেন?

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪, ০৬:৪৫ পিএম

লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সরকার গঠন করতে তাকিয়ে থাকতে হয়েছে এনডিএ জোটের সঙ্গীদের দিকে। শেষমেশ তা সম্ভব হয়েছে চন্দ্রবাবু নাইডু ও নীতিশ কুমারের লিখিত সমর্থন নিয়ে। কিন্তু জোটসঙ্গী এই দলগুলোর আবদার কি বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি পূরণ করবেন?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে নিজেদের দাবি জানিয়ে রেখেছেন বিজেপির জোটসঙ্গী তেলেগু দেশাম পার্টির (টিডিপি) চন্দ্রবাবু নাইডু ও জনতা দল ইউনাইটেড বা জেডির (ইউ) নীতিশ কুমার। 

তবে, বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছে বিজেপি। এমনকি পার্লামেন্টেও নিজেদের প্রভাব রাখতে চাইছে তারা।

বিজেপির চার জোটসঙ্গী টিডিপি, জেডি (ইউ), শিবসেনা ও লোক জনশক্তি পার্টি-রাম বিলাস। এর মধ্যে চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি জিতেছে ১৬টি আসনে। এ ছাড়া নীতিশ কুমারের জেডি (ইউ) ১২টি, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা ৭ ও চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি-রাম বিলাস জিতেছে ৫টি আসনে।

এসব আসন মিলিয়েই সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তিনি। তবে, জোটের পুরোনো নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু ও নীতিশ কুমারের নজর এখন কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ সব পদের দিকে। এরই মধ্যে নিজেদের আবদারও জানিয়ে দিয়েছেন এই দুই নেতা। 

নরেন্দ্র মোদি ও নীতিশ কুমার। ফাইল ছবিএই দুই নেতার মধ্যে একটু বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন চন্দ্রবাবু নাইডু। আর তিনি চাইছেন, লোকসভার স্পিকার পদটা যেন তাঁর দল থেকে দেওয়া হয়। আর নীতিশ কুমারের জেডি (ইউ) চাইছে, তারাও জোটের গুরুত্বপূর্ণ পদ চান। এনডিএ জোটের বিশেষ সমন্বয়ক কমিটির নেতৃত্বও চান নীতিশ কুমার।    

কিন্তু চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপিকে স্পিকারের পদ দিতে রাজি নয় বিজেপি। এর পরিবর্তে তারা টিডিপিকে ডেপুটি স্পিকারের পদের প্রস্তাব করতে পারে। আর নীতিশ কুমারের জেডিকে (ইউ) দেওয়া হতে পারে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানের পদের প্রস্তাব। 

গত ১০ বছর কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনায় ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারে অভ্যস্ত নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এবার শুনতে হবে অন্যদের মতামতও। কারণ জোট সরকার ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না মোদির। তাই অন্যদের মতামতকে অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। 

বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা মোদির নেই। গত তিন দশকে তিনি তিনবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং দুবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে একরকম একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে কাজ করেছেন। এখন হুট করে সমন্বয় করে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনীতি করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এই নতুন কাজের ধরন তিনি কতটা গ্রহণ করতে পারবেন, তার ওপরেই এই সরকারের স্থায়িত্ব নির্ভর করছে।

বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, মন্ত্রিপরিষদে এবার আর নিজের ইচ্ছার প্রতিফলন করতে পারবেন না নরেন্দ্র মোদি। জোটসঙ্গীদের কিছু মন্ত্রণালয় দিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে চারটি মন্ত্রণালয় নিয়ে। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও অর্থ—এই মন্ত্রণালয়গুলো কোনোক্রমেই হাতছাড়া করতে চাইছে না বিজেপি।  

এনডিটিভি বলছে, পরিবহন খাত ও এর উন্নয়ন বিভাগটাও নিজেদের হাতেই রাখতে চান বিজেপির শীর্ষ নেতারা। নির্বাচনের ইশতেহারে চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। দারিদ্র, নারী, তরুণ ও কৃষক—এই চার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত খাতগুলোও বিজেপি নিজেদের পকেটেই রাখতে চায়। 

এনডিএ জোটের নেতারা। ছবি: ফেসবুক এর মধ্যে সড়ক যোগাযোগে গত ১০ বছরে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এই ধারা হারাতে চাইবে না বিজেপি। এ ছাড়া রেল মন্ত্রণালয়ে নীতিনির্ধারকের পদ চাইছে নীতিশ কুমারের জেডি (ইউ)। তবে, বিজেপি বলছে তারা এই মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজাচ্ছে, এ কারণে এই মন্ত্রণালয় ছাড়া যাবে না।

এর পরিবর্তে জেডিকে (ইউ) পঞ্চায়েতি রাজ, আঞ্চলিক উন্নয়নের মতো খাতগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রস্তাব করা হবে। টিডিপিকে দেওয়া হতে পারে সিভিল অ্যাভিয়েশন ও স্টিল বিভাগের পদ। এ ছাড়া পর্যটন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং আর্থ সায়েন্স খাত সঙ্গীদের প্রস্তাব করতে পারে বিজেপি।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে বেশ বিপাকেই পড়েছেন বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি। পার্লামেন্টে নিজেদের মতো সব আইন পাস করাতে পারবেন না। এর বাইরে জোটের রয়েছে কিছু জটিলতা। বিজেপি যেখানে হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি বা ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে অভ্যস্ত, অন্যদিকে নীতিশের জেডি (ইউ) ও নাইডুর টিডিপি দুই দলই নিজেদের দাবি করে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে। 

মুসলিম ভোটারদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে নীতিশের জেডি (ইউ) ও নাইডুর টিডিপি। এমতাবস্থায় এই জোটে ফাঁটল দেখা দেয় কিনা, সেটি দেখার বিষয়। আর জোট না ভাঙলেও মোদি আর আগের মতো প্রভাব বিস্তার নাও করতে পারেন। ছাড়তে হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়।   

টাইমলাইন: ভারতে নির্বাচন
০৬ জুন ২০২৪, ১৮:৪৫
জোটসঙ্গীদের চাওয়া কি মোদি পূরণ করবেন?
০৫ জুন ২০২৪, ১৫:৫৭
দীর্ঘ দুই বছর পর ফের বাংলাদেশিদের পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে ভারত। রোববার থেকেই শুরু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া। কিন্তু এবার আর আগের নিয়মে ভিসা পাওয়া যাবে না। বদলে গেছে অ্যাপয়েন্টমেন্টের...
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির তরুণদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আর এই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি।...
সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে ভারতের বিএসএফ জোয়ানরা হঠাৎ করেই ২৮ জন মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবির বাধায় দলটি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে খোলা...
দেড় দশকের বেশি সময় পর বদলের পথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি বসছে বাংলার মসনদে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তন কি শুধু ভারতের...
প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত এবং তা সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চিকিৎসকেরা যেন রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার...
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে পছন্দের দল হেরে যাওয়ায় সাতক্ষীরাযর রসুলপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাফিজুর রহমান ওরফে লালটু নামে এক আর্জেন্টিনার সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের নতুন উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এতে জ্বালানি আমদানি ব্যয় ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি...
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। অভিযান শুরুর পর ককরোচ জনতা পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হতাহতদের বিষয়ে...
লোডিং...

এলাকার খবর