লোকসভা নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এখন জোট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির নেতৃত্বে গঠিত এনডিএ জোট ও আরেকদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে গঠিত ইন্ডিয়া। জোট ঠিক রাখতে এরই মধ্যে সঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছে বিজেপি। এবার জানা গেল বিজেপির জোটের দুই নেতার সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, শিবসেনার একাংশের নেতা উদ্ভব ঠাকরে বলেছেন, তেলেগু দেশাম পার্টির (টিডিপি) চন্দ্রবাবু নাইডু ও জনতা দল ইউনাইটেডে বা জেডির (ইউ) নীতিশ কুমারের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। তাদের ইন্ডিয়া জোটে আনতে চাইছে কংগ্রেস।
জোটের আলাপে এই ঘটনা বিজেপির জন্য বেশ উদ্বেগজনকই বটে। এই দুই নেতা ছাড়া সরকার গঠন আটকে যেতে পারে মোদির বিজেপির।
এ ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনিও আলাপ করেছেন বলে জানান শিবসেনার একাংশের নেতা উদ্ভব ঠাকরে। তিনি বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের ফল বেশ ভালো হয়েছে। তবে, আমি আশা করেছিলাম আরও আসনে জিততে পারব। আমরা এই জোট গঠন করছি ক্ষমতায় যেতে, প্রধানমন্ত্রী হতে নয়।’
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ কারণে জোটের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে বিজেপি নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। আর এ কারণে জোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেছেন তেলেগু দেশাম পার্টির (টিডিপি) চন্দ্রবাবু নাইডু ও জনতা দল ইউনাইটেডে বা জেডির (ইউ) নীতিশ কুমার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, জনতা দল ইউনাইটেডে বা জেডির (ইউ) নীতিশ কুমার বিজেপির এনডিএ জোটে এসেছেন বেশিদিন হয়নি। তেলেগু দাশাম পার্টির (টিডিপি) চন্দ্রবাবু নাইডুও এই জোটে আছেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২০৫টি আসনে জিতেছে এনডিএ। আর ১৩১টি আসনে জিতেছে ইন্ডিয়া। চন্দ্রবাবু নাইডুর দল টিডিপি জিততে চলেছে ১৬টি আসনে। এর সবগুলোই অন্ধ্রপ্রদেশে। বিহারে ১৪টি আসনে জিততে চলেছে নীতিশ কুমারের দল জেডি (ইউ)।
জোটের মধ্যে থাকলে এ দুজনে মিলে মোদিকে দিতে চলেছেন ৩০টি আসন। এর মাধ্যমে সরকার গঠন সহজ হবে তাদের। এই সংখ্যা যদি বড় রকমের হেরফের না হয় মোদিই ক্ষমতায় যেতে পারেন। এ কারণে এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নেতা হয়ে উঠেছেন এ দুজন।
তবে, এর মধ্যে নীতিশকে নিয়ে একটু ভয়ে থাকতে পারেন মোদি। কেননা গিরগিটির রঙ বদল করার মতোই জোট বদল করেই যাচ্ছেন তিনি। ২০১৪ সালে এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে একা নির্বাচন করেন তিনি। এরপর ২০১৫ সালে লালু যাদবের সঙ্গে মিলে জোট করেন।
দুই বছর না যেতেই এনডিএ জোটে যুক্ত হন নীতিশ। এরপর ২০২২ সালে আবারও জোট থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এ বছর আবার যুক্ত হলেন। এবার তিনি কি জোটে থাকবেন? এটি এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।
৫৪৩টি আসনের মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে দরকার ২৭২টি। এ কারণে জোটের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে বিজেপি নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এবার তাই বিজেপির নেতৃত্বে গঠিত এনডিএ জোটের বৈঠক ডেকেছেন বিজেপির প্রেসিডেন্ট জেপি নাড্ডা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বুধবার বৈঠকের ডাক দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এতে চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি ও নীতিশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড উপস্থিত থাকবে বলে জানা গেছে। এর আগে বিজেপিও নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোট বড় করে সরকার গঠনের সুযোগ থাকবে ইন্ডিয়া জোটের। এরই মধ্যে উত্তর প্রদেশে তাদের জয়জয়কার। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি পিছিয়ে আছে ইন্ডিয়া জোটের তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে।
আরও পড়ুন:
- মুসলমানেরা কাকে ভোট দেয়
- কাকে ভোট দিলেন মোদি?
- বিতর্কিত কমিশন, ভরপুর আশঙ্কা
- নির্বাচনকে হিন্দু–মুসলিম সংঘাতে পরিণত করতে চান মোদি
- এ ক্ষেত্রেও প্রথম মোদি
- মুসলমানরাই মোদির শেষ ভরসা?
- এত উদাসীন কেন ভারতের ভোটারেরা
- মোদি আবার মুসলিম বিরোধিতায় ফিরলেন?
- মোদি-বিরোধীরা এতটা ছন্নছাড়া কেন?
- মুসলমানদের নিয়ে যা বললেন মোদি, ভারতে বিতর্ক



