ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির ( বিজেপি) নেতৃত্বাধীন এনডিএ। দেশটির নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ভারতে গত ১৯ এপ্রিল থেকে সাত দফায় লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়। ১ জুন ছিল শেষ ধাপের ভোট। গতকাল মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছে ২৯১টি আসন। এরমধ্যে বিজেপি ২২৮টি, তেলেগু দেসাম পার্টি (টিডিপি) ১৬টি, জনতা দল (ইউনাইটেড) ১২টি, লোক জনশক্তি পার্টি (রাম ভিলাস) ৫টি আসন পেয়েছে। আর বিরোধী ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২৩১টি আসন। এই জোটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছে কংগ্রেস। ভারতের প্রধান বিরোধী দলের এরইমধ্যে ৯৭টি আসনে জয় নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া সমাজবাদী পার্টি ৩৭টি, তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি, দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম ২২টি আসন পেয়েছে। এছাড়া এই দুটি জোটের বাইরে থাকা অন্যানরা পেয়েছে ১৭টি আসন।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী বিজেপি এককভাবে ভারতের ক্ষমতায় আসতে পারছে না তা প্রায় নিশ্চিত। লোকসভার মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে সরকার গড়তে প্রয়োজন ২৭২ আসন। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ৩০৩ আসনে জয় পেয়েছিল। সেবার বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ ৩৫২ আসনে জয় পায়। তবে ধারণা করা হচ্ছে এবারের নির্বাচনে বিজেপি জিতলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সেক্ষেত্রে এনডিএ জোট শরিকদের ওপর নির্ভর করতে হবে বিজেপিকে।
লোকসভা নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এখন জোট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির নেতৃত্বে গঠিত এনডিএ জোট ও আরেকদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে গঠিত ইন্ডিয়া। জোট ঠিক রাখতে এরই মধ্যে সঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছে বিজেপি। এবার জানা গেল বিজেপির জোটের দুই নেতার সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, শিবসেনার একাংশের নেতা উদ্ভব ঠাকরে বলেছেন, তেলেগু দেশাম পার্টির (টিডিপি) চন্দ্রবাবু নাইডু ও জনতা দল ইউনাইটেডে বা জেডির (ইউ) নীতিশ কুমারের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। তাদের ইন্ডিয়া জোটে আনতে চাইছে কংগ্রেস।
জোটের আলাপে এই ঘটনা বিজেপির জন্য বেশ উদ্বেগজনকই বটে। এই দুই নেতা ছাড়া সরকার গঠন আটকে যেতে পারে মোদির বিজেপির।
চন্দ্রবাবু নাইডুর দল টিডিপি জিততে চলেছে ১৬টি আসনে। এর সবগুলোই অন্ধ্রপ্রদেশে। বিহারে ১৪টি আসনে জিততে চলেছে নীতিশ কুমারের দল জেডি (ইউ)।
জোটের মধ্যে থাকলে এ দুজনে মিলে মোদিকে দিতে চলেছেন ৩০টি আসন। এর মাধ্যমে সরকার গঠন সহজ হবে তাদের। এই সংখ্যা যদি বড় রকমের হেরফের না হয় মোদিই ক্ষমতায় যেতে পারেন। এ কারণে এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নেতা হয়ে উঠেছেন এ দুজন।
তবে, এর মধ্যে নীতিশকে নিয়ে একটু ভয়ে থাকতে পারেন মোদি। কেননা গিরগিটির রঙ বদল করার মতোই জোট বদল করেই যাচ্ছেন তিনি। ২০১৪ সালে এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে একা নির্বাচন করেন তিনি। এরপর ২০১৫ সালে লালু যাদবের সঙ্গে মিলে জোট করেন।
দুই বছর না যেতেই এনডিএ জোটে যুক্ত হন নীতিশ। এরপর ২০২২ সালে আবারও জোট থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এ বছর আবার যুক্ত হলেন। এবার তিনি কি জোটে থাকবেন? এটি এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।
৫৪৩টি আসনের মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে দরকার ২৭২টি। এ কারণে জোটের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে বিজেপি নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এবার তাই বিজেপির নেতৃত্বে গঠিত এনডিএ জোটের বৈঠক ডেকেছেন বিজেপির প্রেসিডেন্ট জেপি নাড্ডা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বুধবার বৈঠকের ডাক দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এতে চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি ও নীতিশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড উপস্থিত থাকবে বলে জানা গেছে। এর আগে বিজেপিও নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোট বড় করে সরকার গঠনের সুযোগ থাকবে ইন্ডিয়া জোটের। এরই মধ্যে উত্তর প্রদেশে তাদের জয়জয়কার। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি পিছিয়ে আছে ইন্ডিয়া জোটের তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে।
আরও পড়ুন:
- মুসলমানেরা কাকে ভোট দেয়
- কাকে ভোট দিলেন মোদি?
- বিতর্কিত কমিশন, ভরপুর আশঙ্কা
- নির্বাচনকে হিন্দু–মুসলিম সংঘাতে পরিণত করতে চান মোদি
- এ ক্ষেত্রেও প্রথম মোদি
- মুসলমানরাই মোদির শেষ ভরসা?
- এত উদাসীন কেন ভারতের ভোটারেরা
- মোদি আবার মুসলিম বিরোধিতায় ফিরলেন?
- মোদি-বিরোধীরা এতটা ছন্নছাড়া কেন?
- মুসলমানদের নিয়ে যা বললেন মোদি, ভারতে বিতর্ক



