লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। এনডিএ জোটের সঙ্গীদের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করেছে তারা। সে কারণে এই এনডিএ জোটের কথাই বারবার বলছেন নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচনে ফল প্রকাশের পর এ পর্যন্ত দেওয়া চারটি ভাষণে একবারও নিজের নাম উচ্চারণ করেননি তিনি। অথচ এনডিএ জোটের নাম নিয়েছেন মোট ৬০ বার!
এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের প্রচারের সময় চারটি র্যালিতে বক্তৃতা দেওয়ার সময় অন্তত ২৯ বার নিজের নাম নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া ‘মোদি সরকার’ শব্দটি ১৩ বার এবং ‘মোদি গ্যারান্টি’ শব্দটি বলেছেন চারবার।
নির্বাচনে এনডিএ জোটের সঙ্গীরা পাশে না থাকলে ক্ষমতায় আসা হতো না বিজেপির। এ কারণেই বারবার এই জোটের নাম আসছে মোদির মুখে। এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকেরা।
এর আগে ২০১৯ সালের নির্বাচনে জেতার পর বিজয়ী ভাষণে ‘বিজেপি’ শব্দটি ১২ বার বলেন মোদি। মাত্র তিনবার বলেছিলেন এনডিএ জোটের কথা। ওই সময় ৩০৩ আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিজেপি। এবার ২৪০ এর মতো আসন পাওয়ার পরই দলের নামের চেয়ে জোটের নাম বেশি নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি।
এবার ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত একবারও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বা তাদের নিয়ে কোনো কথা বলেননি মোদি। যদিও প্রচারের সময় এ কাজ বেশ কয়েকবার করেছেন তিনি।
জোটের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে জোট সামলাতে শুরু থেকেই বেশ চাপে আছেন এই বিজেপি নেতা। মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এনডিএ জোটের শরিক একনাথ শিন্ডের শিবসেনা। সোমবার শিবসেনার নেতা শ্রীরাং বার্ন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুরোনো সঙ্গী হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের দলের কাউকে পূর্ণমন্ত্রী করা হলো না?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, এনডিএর শরিক দলগুলোর মধ্যে অনেক দল শিবসেনার তুলনায় কম আসন পেয়েও কীভাবে পূর্ণমন্ত্রিত্ব পেয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিবসেনার নেতা শ্রীরাং বার্ন। প্রসঙ্গত, শিবসেনার প্রতাপরাও জাদভ রোববার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই দলের পক্ষ থেকে আর কারও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি।
বিজেপির সঙ্গে মন্ত্রিত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই টানাপড়েন শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রের আরেক শরিকদল এনসিপির (অজিত পওয়ার) মধ্যে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অজিতের দলকে একটি প্রতিমন্ত্রীর পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু অজিত শিবির জানায়, তাদের এক জনকে পূর্ণমন্ত্রী করতে হবে। যদিও তাদের এই আবদার মানা হয়নি।
টানা তৃতীয়বার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রোববার শপথ নেন নরেন্দ্র মোদি। ওইদিন শপথ নেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও। তবে ওইদিন জানানো হয়নি কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন। আজ সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানা গেল কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন। তাতে দেখা যায়, প্রধান ৪ মন্ত্রণালয়ে গতবারের চারজনকেই রাখা হয়েছে।
দেড় মাসের বেশি সময় ধরে সাত দফায় ভোটগ্রহণের পর গত ৪ জুন ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়। নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শরিকদের হাত ধরে এবার জোট সরকার গঠন করতে হচ্ছে মোদিকে।
এবারের নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ২৪০টি আসনে জয় পেয়েছে। আর জোটগতভাবে এনডিএ পেয়েছে ২৯২টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছে ৯৯টি আসন। আর জোটগতভাবে ইন্ডিয়া পেয়েছে ২৩২টি আসন।



