ভারতের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। এর চেয়ে বড় বিষয়, ‘শক্ত ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত উত্তর প্রদেশে ইন্ডিয়া জোটের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে বিজেপির ইন্ডিয়া। ভোটের ফল প্রকাশের পর উত্তর প্রদেশে জরিপ করে সিএসডিএস। তাতে জানা যায়, উত্তর প্রদেশের বেশিরভাগ মানুষ মোদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান না। তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তর প্রদেশে বেশ জনপ্রিয়তা ছিল নরেন্দ্র মোদির। তবে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর চিত্র পুরো পাল্টে যায়। সিএসডিএসের জরিপ বলছে, উত্তর প্রদেশের ৩৬ শতাংশ মানুষ রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। আর নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৩২ শতাংশ।
লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের ৭৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। তাতে ৩৩টি আসনে জিতেছে বিজেপি। তাদের এনডিএ জোট জিতেছে মোট ৩৪টিতে। অপরদিকে ইন্ডিয়া জোট জিতেছে ৪৩টি আসনে। এর মধ্যে ১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬টিতে জিতেছে কংগ্রেস। বাকি আসনগুলো সমাজবাদী পার্টি।
লোকনীতি-সিএসডিএস জরিপ বলছে, সমাজের উঁচুশ্রেণির মানুষদের ভোট পেয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণ, রাজপুত ও বৈশ্য। এর বাইরে নিম্নশ্রেণি ও তফশিলি গোষ্ঠী ও মুসলমানরা ইন্ডিয়া জোটকে বেছে নেন।
বিজেপির এই ধরাশায়ী হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মোদির কৌশলকে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) অখিলেশ যাদবের কৌশলের টেক্কা। মোদি যেখানে উঁচুশ্রেণির নেতাদের টিকিট দিয়েছেন, অখিলেশ সেখানে বেছে নিয়েছেন দলিতদের।
উত্তর প্রদেশের দলিতদের ভয় ছিল, ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধান পাল্টে দিতে পারে বিজেপি। তাতে তাদের সুযোগ সুবিধা কমে যাবে। এ কারণে ভোট পড়েছে ইন্ডিয়া জোটের বাক্সে। এর বাইরে আরকেটি কারণ, মানুষ বুঝতে পারে যে বিজেপি ভেদাভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে।



