ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম লোকসভার স্পিকার পদের জন্য নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তাতে লড়বেন ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) নেতা বিজেপির এমপি ওম বিড়লা ও বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতা কংগ্রেসের এমপি কে সুরেশ। দুজনেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, এর আগে এই দুই জোটের মধ্যে এ নিয়ে বৈঠক হয়। তাতে সরকারের মনোনীত স্পিকারকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানান বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। বিনিময়ে তাদের জোট থেকে ডেপুটি স্পিকারের পদে কাউকে সমর্থন দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আলোচনার পর এই বিষয়ে একমত হতে পারেনি দুই জোট। এ কারণে দুই জোট থেকেই স্পিকারের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়া হলো। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসে এই প্রথম ভারতের লোকসভায় স্পিকার পদে নির্বাচন হবে।
কে সুরেশ মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে বুধবার লোকসভার স্পিকার নির্বাচনের জন্য ভোট হওয়ার কথা।
স্পিকার নির্বাচনে বিরোধীদের সমর্থন চেয়ে সোমবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে কথা বলেন বিজেপি নেতা রাজনাথ সিং। খাড়গে তাঁকে বলেছিলেন, তিনি ইন্ডিয়া জোটের বাকি শরিকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানাবেন। তিনি রাজনাথকে জানান, ডেপুটি স্পিকারের পদটি যদি ইন্ডিয়া জোটের কোনো প্রতিনিধিকে দেওয়া হয়, তবে তাঁরা স্পিকারকে সমর্থন করবেন।
রাজনাথ জানিয়েছিলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার মনোনয়ন পর্বের আগেই আবার কথা বলবেন। কিন্তু রাহুলের দাবি, রাজনাথ কথা রাখেননি। বিরোধীদের সঙ্গে আর কোনো রকম যোগাযোগ করেননি তিনি। তাই কংগ্রেস তাদের কথা থেকেও সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। রাহুল জানান, এনডিএর স্পিকারকে সমর্থন করার সিদ্ধান্তই নিয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। তবে, এখন তারা পাল্টা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাধারণত ডেপুটি স্পিকারের পদটির দাবিদার বরাবরই ছিল বিরোধীরা। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে তা হয়নি। ২০১৪ সালে বিজেপির সরকার ডেপুটি স্পিকারের পদ দিয়েছিল তাদের জোট সঙ্গী এআইএডিএমকের এম থাম্বি দুরাইকে।
২০১৯ সালে ফাঁকাই ছিল এই পদ। ওই দু’বছরই বিরোধীরা দুর্বল ছিল লোকসভায়। কোনো বিরোধী দলনেতাও ছিল না। কিন্তু এ বার কংগ্রেস একা ৯৯টি আসন পেয়েছে। বিরোধীরাও ভাল ফল করেছে। তাই এই পদটির জন্য জোরালো দাবি জানায় ইন্ডিয়া জোট।



