ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স, এক কথায় বললে ইন্ডিয়া। গত বছর নাম ঘোষণার পরপরই আলোচনায় চলে আসে এই জোট। কেননা ভারতকে ইংরেজিতে বলা হয় ইন্ডিয়া। এরপর এই নাম ইংরেজিতেও ভারত করার ব্যাপারটি আলোচনা হয়। কিন্তু তা আর হয়নি। ভাঙা যায়নি ইন্ডিয়া জোটও।
শুরুর দিকে সংবাদমাধ্যমে তেমন আলোচনা ছিল না ভারতীয় কংগ্রেসের গঠিত এই জোটের। পরে আলোচনায় আসে ভাঙনের সুর নিয়ে। তবে, নির্বাচনে ঠিকই অংশ নেয় ইন্ডিয়া। আর সাড়ে ১১ মাসের এই জোট শক্তভাবেই টক্কর দিল ২৮ বছরের জোট বিজেপির এনডিএকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, শেষ পর্যন্ত বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটকে হারাতে না পারলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ার সম্ভাবনা ইতি টেনে দিয়েছে বিরোধী জোট।
এখন পর্যন্ত ধারণা, বিজেপি এককভাবে আসনসংখ্যা ২৪০-এর আশপাশে থাকবে। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৭২টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২২৯টি আসনে জিতেছে এনডিএ। আর ১৫২টি আসনে জিতেছে ইন্ডিয়া।
চন্দ্রবাবু নাইডুর দল টিডিপি জিততে চলেছে ১৬টি আসনে। এর সবগুলোই অন্ধ্রপ্রদেশে। বিহারে ১৪টি আসনে জিততে চলেছে নীতিশ কুমারের দল জেডি (ইউ)। এরা সবাই এনডিএ জোটের। জোটের মধ্যে থাকলে এ দুজনে মিলে নরেন্দ্র মোদিকে দিতে চলেছেন ৩০টি আসন। এর মাধ্যমে সরকার গঠন সহজ হবে তাদের। এই সংখ্যা যদি বড় রকমের হেরফের না হয় মোদিই ক্ষমতায় যেতে পারেন। তা নাহলে বিপদেই পড়তে হবে তাঁকে।
এক সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, এনসিপি (এস) প্রধান শারদ পওয়ার ইন্ডিয়ায় কলেবর বাড়াতে সক্রিয় হয়েছেন। এনডিএর বেশ কয়েকজন শরিক নেতার সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে মমতাও আশা প্রকাশ করেছেন, আরও কিছু দল অদূর ভবিষ্যতে ইন্ডিয়ায় শামিল হবে।
গত বছরের ১৯ জুলাই বেঙ্গালুরুতে বিজেপি বিরোধী নেতাদের দ্বিতীয় বৈঠকে ইন্ডিয়ার আবির্ভাব হয়। এ বার ইন্ডিয়ার শরিক দলগুলোর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ বা আংশিক আসন সমঝোতা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল, কেরালায় বাম, পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি (এএপি), জম্মু ও কাশ্মীরে পিডিপির মতো কেউ আবার কংগ্রেসের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
২০২৩ সালের ২৩ জুন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমারের ডাকে পাটনার বিরোধী জোটের বৈঠকে ১৫টি দল ছিল। জুলাইয়ে বেঙ্গালুরুতে সেই তালিকা বেড়ে হয় ২৬। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে নীতিশ সদলবলে ফিরে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএতে।
এদিকে, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে গড়ে উঠেছিল এনডিএ। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রিত্বে এই জোটের সরকার ছিল। তারপর ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে জিতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ফের সরকার গঠন করে এই জোট।



