জোটের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে জোট সামলাতে শুরু থেকেই বেশ চাপে আছেন এই বিজেপি নেতা। মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এনডিএ জোটের শরিক একনাথ শিন্ডের শিবসেনা। সোমবার শিবসেনার নেতা শ্রীরাং বার্ন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুরোনো সঙ্গী হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের দলের কাউকে পূর্ণমন্ত্রী করা হলো না?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, এনডিএর শরিক দলগুলোর মধ্যে অনেক দল শিবসেনার তুলনায় কম আসন পেয়েও কীভাবে পূর্ণমন্ত্রিত্ব পেয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিবসেনার নেতা শ্রীরাং বার্ন। প্রসঙ্গত, শিবসেনার প্রতাপরাও জাদভ রোববার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই দলের পক্ষ থেকে আর কারও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি।
শিবসেনার নেতা শ্রীরাং বার্ন বলেন, চিরাগ পাসওয়ানের পাঁচজন সাংসদ রয়েছেন। জিতনরাম মাঝিঁ একাই সাংসদ। জেডিএসের মাত্র দুজন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও দলগুলো একটি করে পূর্ণমন্ত্রীর পদ পেয়েছে। আমাদের সাতজন লোকসভার সাংসদ রয়েছেন। কেন শিবসেনা কেবল একটি প্রতিমন্ত্রীর পদ পাবে?
শিন্ডের দলের এই নেতা বলেন, শিবসেনা বিজেপির পুরোনো সঙ্গী। তাই দলের একটি পূর্ণমন্ত্রিত্ব প্রাপ্য ছিল।
বিজেপির সঙ্গে মন্ত্রিত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই টানাপড়েন শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রের আরেক শরিকদল এনসিপির (অজিত পওয়ার) মধ্যে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অজিতের দলকে একটি প্রতিমন্ত্রীর পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু অজিত শিবির জানায়, তাদের এক জনকে পূর্ণমন্ত্রী করতে হবে। যদিও তাদের এই আবদার মানা হয়নি।
টানা তৃতীয়বার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রোববার শপথ নেন নরেন্দ্র মোদি। ওইদিন শপথ নেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও। তবে ওইদিন জানানো হয়নি কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন। আজ সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানা গেল কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন। তাতে দেখা যায়, প্রধান ৪ মন্ত্রণালয়ে গতবারের চারজনকেই রাখা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন যথারীতি অমিত শাহ। এ ছাড়া প্রতিরক্ষায় রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্রে এস জয়শঙ্কর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন নির্মলা সীতারমন। বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হয়েছেন।
দেড় মাসের বেশি সময় ধরে সাত দফায় ভোটগ্রহণের পর গত ৪ জুন ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়। নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শরিকদের হাত ধরে এবার জোট সরকার গঠন করতে হচ্ছে মোদিকে।
এবারের নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ২৪০টি আসনে জয় পেয়েছে। আর জোটগতভাবে এনডিএ পেয়েছে ২৯২টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছে ৯৯টি আসন। আর জোটগতভাবে ইন্ডিয়া পেয়েছে ২৩২টি আসন।



