ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পদত্যাগপত্র দেওয়ার সময় মোদিকে নতুন সরকার গঠন হওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ করেছেন প্রেসিডেন্ট মুর্মু। এদিকে, এনডিএ জোট সরকার গঠন করলে আগামী শনিবার ৮ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন নরেন্দ্র মোদি।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এমন পরিস্থিতিতে আজ বুধবার বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ ও বিরোধী জোট ইন্ডিয়া সরকার গঠনের জন্য সঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে আজ সকাল সাড়ে এগারটার দিকে মোদির সরকারি বাস ভবনে ইউনিয়ন ক্যাবিনেটের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লোকসভার ফলাফল এবং নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এদিকে, এনডিএ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে জোটের শীর্ষ নেতারা দিল্লিতে আসতে শুরু করেছে। বিকেল চারটায় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে। এনডিএ জোটের তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) চন্দ্রবাবু নাইডু ও জনতা দল ইউনাইটেডে বা জেডির (ইউ) নীতীশ কুমারের ওই বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিহারের নীতীশ কুমার ইতিমধ্যে জোটের কাছে নতুন সরকারে তিনটি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে।
শিবসেনার একাংশের নেতা উদ্ভব ঠাকরে বলেছেন, তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) চন্দ্রবাবু নাইডু ও জনতা দল ইউনাইটেডে বা জেডির (ইউ) নীতীশ কুমারের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। তাদের ইন্ডিয়া জোটে আনতে চাইছে কংগ্রেস।
জোটের আলাপে এই ঘটনা বিজেপির জন্য বেশ উদ্বেগজনকই বটে। এই দুই নেতা ছাড়া সরকার গঠন আটকে যেতে পারে মোদির বিজেপির। সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে বলছে, টিডিপির নাইডু এনডিএ জোট থেকে বের হবেন না। তিনি ভারতের পার্লামেন্টের স্পিকার হতে পারেন।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, নীতীশ কুমার ভোটের আগেই শরিক বদলে যোগ দিয়েছিলেন এনডিএতে। এবার রহস্যজনক গতিবিধি দেখা গেল নীতীশ কুমারের। ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পর ইন্ডিয়া জোটের আরজেডির শীর্ষ নেতা তেজস্বী যাদবের সঙ্গে এক বিমানে দিল্লি সফর করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এ কারণে জোটের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে বিজেপি নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। আর এ কারণে জোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেছেন তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) চন্দ্রবাবু নাইডু ও জনতা দল ইউনাইটেডে বা জেডির (ইউ) নীতীশ কুমার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, জনতা দল ইউনাইটেডে বা জেডির (ইউ) নীতীশ কুমার বিজেপির এনডিএ জোটে এসেছেন বেশিদিন হয়নি। তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) চন্দ্রবাবু নাইডুও এই জোটে আছেন। জোটের মধ্যে থাকলে এ দুজনে মিলে মোদিকে দিতে চলেছেন ৩০টি আসন। এর মাধ্যমে সরকার গঠন সহজ হবে তাদের। এই সংখ্যা যদি বড় রকমের হেরফের না হয় মোদিই ক্ষমতায় যেতে পারেন। এ কারণে এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নেতা হয়ে উঠেছেন এ দুজন।
তবে এর মধ্যে নীতীশকে নিয়ে একটু ভয়ে থাকতে পারেন মোদি। কেননা গিরগিটির রঙ বদল করার মতোই জোট বদল করেই যাচ্ছেন তিনি। ২০১৪ সালে এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে একা নির্বাচন করেন তিনি। এরপর ২০১৫ সালে লালু যাদবের সঙ্গে মিলে জোট করেন।
দুই বছর না যেতেই এনডিএ জোটে যুক্ত হন নীতীশ। এরপর ২০২২ সালে আবারও জোট থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এ বছর আবার যুক্ত হলেন। এবার তিনি কি জোটে থাকবেন? এটি এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।
বিশ্লষকেরা বলছেন, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোট বড় করে সরকার গঠনের সুযোগ থাকবে ইন্ডিয়া জোটের।



