ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বুথফেরত জরিপ প্রকাশ্যে আসার পর হু হু করে উপরের দিকে উঠতে থাকে শেয়ারবাজার। কিন্তু ফল প্রকাশের দিন মঙ্গলবার উল্টো চিত্র। ধস নামে শেয়ারবাজারে। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করলেন, এটি হচ্ছে শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় কারসাজি। এতে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর হাত থাকতে পারে। এ নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, এমন অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন রাহুল গান্ধী। এ সময় তিনি বলেন, ‘কেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৫ কোটি বিনিয়োগকারী পরিবারকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিলেন? শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের নির্দেশ দেওয়া কি তাদের কাজ? শেয়ারবাজারে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে যে সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, সেই সংস্থার চ্যানেলেই ওই ইন্টারভিউ দিলেন!’
এ সময় রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ‘বিজেপি, সন্দেহভাজন বুথফেরত সমীক্ষাকারী সংস্থা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কী সংযোগ রয়েছে? একদিন আগে বিনিয়োগ করে এত টাকা বিনিয়োগ তুললেন কারা? কাদের জন্য ৫ কোটি মানুষের এত টাকা ক্ষতি হলো? আমরা যৌথ সংসদীয় তদন্ত চাই। কারণ এটা একটা বড় দুর্নীতি। কোটি কোটি খুচরো বিনিয়োগকারীদের বলি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে কেউ। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেয়ার কেনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এটা অপরাধ। যৌথ সংসদীয় কমিটিকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে।’
গত ২৩ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শেয়ারবাজারের উর্ধ্বগতি দেখা যাবে। ওই সময় তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের ভরসা দিয়ে বলতে চাই, আগামী ৪ জুন বিজেপি রেকর্ড আসনে জিতবে। আর ওই রেকর্ডের দিন শেয়ারবাজারেও রেকর্ড হবে।’
এর আগে গত ১৩ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনডিটিভি প্রোফিট নামের এক প্রোগ্রামে বলেন, ‘আমার নিজস্ব মতামত হচ্ছে, আগামী ৪ জুনের আগে শেয়ার কিনে নিন। বাজার উর্ধ্বমূখী হচ্ছে।’
এসব বক্তব্যের জের টেনে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেন, ভোটের ফল কেমন হতে পারে তা আগে থেকেই জেনে গিয়েছিল বিজেপি। রাহুল বলেন, ‘আদানির চেয়ে বড় ইস্যু এটি। তবে, আদানি ইস্যুর সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে। এটা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে হয়েছে। তারা আগে থেকেই ভোটের ফল জানতেন। এ কারণে এমন পরামর্শ দিয়ে এক শ্রেণির মানুষের সুবিধা করে দিয়েছেন।’
ভারতের ইতিহাসে আগে কখনো এমন হয়নি দাবি করে রাহুল বলেন, ‘আগে কখনো প্রধানমন্ত্রী শেয়ারবাজার নিয়ে কথা বলেননি। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকবার বললেন, শেয়ারবাজারে উর্ধ্বগতি আসছে। কিন্তু হলো উল্টোটা। বুথফেরত জরিপ ভুল প্রমাণিত হলো।’
বুথফেরত জরিপে মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ৪০০ আসন নিয়ে প্রত্যাবর্তন করছে বলে দাবি করা হয়। সেই রিপোর্ট সামনে আসতেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায় শেয়ারের সূচক। কিন্তু মঙ্গলবার ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, বিজেপির জোট এনডিএ ৩০০ আসনও পায়নি। বিজেপি পায়নি সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এতে শেয়ারবাজারে ধস নামে, বিনিয়োগকারীদের ৩১ লাখ কোটি রুপি লোকসান যায়।
রাহুল গান্ধী ছাড়াও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও সেই নিয়ে সরব হন। তার অভিযোগ ছিল, সাজানো বুথফেরত সমীক্ষাকে সামনে রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে বিনিয়োগকারীদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। শেয়ারবাজারে কারচুপি করা অর্থনৈতিক অপরাধের মধ্যে পড়ে। এক্ষেত্রে একযোগে তদন্তের দাবি তুলেছেন তৃণমূল ও কংগ্রেসসহ বিরোধীরা।



