ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে লক্ষ্মীপুরে রামগঞ্জের চাঙ্গির গাঁ এলাকায় ঘরচাপা পড়ে ফারিহা আক্তার (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় শিশুর নানি হোসনে আরা বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত হোসনে আরা বেগমকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত শিশু ফারিহা আক্তার উপজেলার চাঙ্গির গাঁ এলাকার সবুজ মিয়ার মেয়ে। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ৫ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ও এক হাজার গাছপালা উপড়ে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে ৩০টি গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রামগতি ও কমলনগর ও রায়পুরের চরাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ রয়েছে। এছাড়া রোববার রাত থেকে পুরো জেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। এতে করে কয়েক হাজার সংযোগ লাইনের তার বিচ্ছিন্ন ও মিটার ভেঙে যায়।
অপরদিকে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ৩০টি গ্রাম। তলিয়ে যাওয়া গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে রামগতির চরআবদুল্লাহ, বয়ারচর, তেলিরচর চরগজারিয়া, বড়খেরী, চররমিজ, আলেকজান্ডার, কমলনগর উপজেলার লুধুয়া, নাছিরগঞ্জ, মাতাব্বরহাট, সদর উপজেলার চরমেঘা, চররমনী মোহন, মজুচৌধুরীরঘাট, রায়পুর উপজেলার চরকাচিয়া ও চরঘাসিয়া ইত্যাদি। এসময় দুই শতাধিক পুকুর বা ঘেরের মাছ ভেসে যায়। ব্যাপক ক্ষতি হয় গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘কবে বিদ্যুৎ লাইন সচল হবে, তা নিশ্চিত নয়। অনেক খুটি ও তার ছিড়ে যাওয়ায় মেরামত করতে সময় লাগছে। পাশাপাশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে কাজ ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। চেষ্টা করছি। মাঠকর্মীরা কাজ করছে।’
জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান বলেন, ‘ঘূর্ণঝড় রেমালের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণের কাজ চলছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’



