পটুয়াখালীর কলাপাড়ার দক্ষিণ গৈয়াতলা গ্রামের বাসিন্দা মাজেদা বেগম। পাঁচ ছেলের সবাই থাকেন আলাদা আলাদা। স্বামী মারা গেছেন ২০ বছর আগে। প্রতিবেশীদের অনুগ্রহে চলে সংসার। ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে বসতঘর হারিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত পুরো এলাকা। মাজেদা বেগমের মতো মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা বেশিরভাগ পরিবার।
মাজেদা বেগম বলেন, ‘আমি অসহায়ের নাগাল এহন বাচতেয়াছি। খাই দাই মানের ঘরে, এটু নামাজ পড়ি মানের ঘরে যাইয়া। ঘরের মইদ ক্যামনে থাকমু। থাহার তো কোনো কায়দা দেহি না।’
নীলগঞ্জ ইউনিয়নে গৈয়াতলা, হাকিমপুর, মোস্তফাপুরসহ গ্রামের সংখ্যা অন্তত ৪০টি। চারপাশ ঘিরে আছে আন্ধার মানিক নদী। ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধের অন্তত ৩ কিলোমিটার এলাকা।
স্থানীয়রা বলছেন, এ ইউনিয়নে বাসিন্দা অন্তত ৫০ হাজার। রিমালের হানায় কারও উড়ে গেছে ঘরের চালা। কেউ হারিয়েছেন ঘেরের মাছ। নষ্ট হয়েছে ক্ষেতের ফসল ও সবজি।
গ্রামবাসী বলেছেন, গতি কম থাকলেও ঝড়টি বেশি সময় স্থায়ী হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। রিমালের তাণ্ডব হাত থেকে রেহাই পায়নি এখনকার কোনো পরিবার।
স্থানীয়রা বলেন, ‘ঝড়ে ঘরের ক্ষতি হইছে। কারেন্ট নাই। সড়ক ভেঙে গেছে। থাকার তো জায়গা নাই।’
কলাপাড়ার ১২ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় দুর্গতের সংখ্যা ৭৫ হাজার ১৩০। পুরোপুরি বিধ্বস্ত ১৪০টি বাড়ি আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৬শর ওপরে। আর মারা গেছেন একজন।



