ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় কৃষি খাতে ক্ষতি প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পৌনে ২ লাখ কৃষক। পাশাপাশি বিধ্বস্ত হয়েছে অনেক ঘর-বাড়ি, উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ-পালা। কৃষিতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আগাম চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা।
বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর, শার্শি, বাটনা, মুকুন্দপটি , লাকুটিয়া আমিনমাজার পর্যন্ত প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে চাষ করেন দুই শতাধিক কৃষক। এবার আউশ ছাড়াও চাষ হয়েছিল ঝিঙ্গা, ঢেঁড়শ, মরিচ, মুগ ডাল ও পান। ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে এখানকার বেশিরভাগ ফসলই নষ্ট হয়েছে। পুরো জেলাজুড়েই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এমন ক্ষত।
ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার ৫ দিন পরও অনেক ক্ষেতের ফসল এখনো পানির নীচে। আর যেখানে পানি নেমে গেছে, সেখানে ফসল লেপ্টে আছে কাদায়। এসব ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত থেকে যতটুকু পারা যায়, ফসল তোলার চেষ্টা করছেন ভুক্তভোগীরা।
একজন ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, ‘যেগুলো করেছিলাম সবই নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের চাষাবাদও হয়ে গেছে জমি, কিন্তু এখন বীজ যে লাগাবো সে পরিস্থিতিই নাই। লেবারের খরচ দিয়েছি, বীজতলা করেছি.. বিশাল একটা ক্ষতি হয়ে গেছে আমাদের।’
কৃষি বিভাগ বলছে, জেলার ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আউশসহ সবজি, ফল ও পাটের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১৭১ হেক্টর জমির মরিচ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া, ৪২ ভাগ আউশের বীজতলা, ২২ ভাগ আউশ আবাদ, ৩২ ভাগ পান ও ৩০ ভাগ সবজি পুরো নষ্ট হয়েছে।
বরিশাল জেলা কৃষি কর্মকর্তা মুরাদুল ইসলাম বলেন, ‘আউশ একটা বড় অংশ আর পান একটা বড় অংশ রয়েছে। আউশের প্রায় ৯৪০ হেক্টর জমি আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ হবে। পান দেখা যাচ্ছে ৮৯৬ হেক্টর জমির, ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।’
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জেলায় কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। আর পুরো বিভাগে এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শওকত ওসমান বলেন, ‘কৃষকদের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন মৌসুমে তাদের বিশেষ প্রনোদনা দেওয়া হবে। চাষাবাদও আগাম করা হবে যাতে কৃষকরা দ্রুত এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে। আগে দুর্যোগে বেড়ে ওঠা পানি দ্রুত নেমে যেতো, এবারে তা না নামায় কৃষিতে বিপর্যয় হয়েছে।’
গতবছরের নভেম্বরেও ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে এ অঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন।



