ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে সুন্দরবনে এখন পর্যন্ত ৩৯টি মৃত হরিণ উদ্ধার হয়েছে। ঝড়ে আহত ১৭টি হরিণকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ডুবে গেছে বনের মিঠা পানির পুকুর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন ফাঁড়ির জেটি, সড়ক ও বনকর্মীদের আবাসিক ঘর। বন বিভাগের দাবি, ঝড়ে অবকাঠামোর ক্ষতি পাঁচ কোটি টাকারও বেশি।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বিপর্যস্ত হয় পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চর। এখানে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস তছনছ করে দেয় চারপাশ। ভেসে আসে বনের হরিণ। ঝড়ের সময় জামতলা, কটকা, করমজল, বুড়িগোয়ালিনী, কলাগাছিয়া, হলদিবুনিয়াসহ ১৫টি স্থান থেকে মারা যাওয়া হরিণ ও আহত হরিণ ভেসে আসে।
খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দো বলেন, কটকা অভয়ারণ্যকেন্দ্র থেকে ৩৯টি মৃত হরিণ উদ্ধার করে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৭টি আহত হরিণ উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গেল ২৬ ও ২৭ মে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে আসা ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আঘাত হানে সুন্দরবনে। সাথে ১৩৫ মিলিমিটার ভারী বৃষ্টি। এতে পশ্চিম সুন্দরবনের কলাগাছিয়া, হলদিবুনিয়া, পুষ্পকাঠি, নটাবেকি, মান্দারবাড়িয়ায় বনের মিঠা পানির পুকুর প্লাবিত হয়েছে জোয়ারের লোনা পানিতে। বিধ্বস্ত হয়েছে জেটি, বন ফাঁড়ির রাস্তা ও ঘর। ঝড়ের সময় এখানে তীব্র বাতাসে বিপর্যস্ত হয় চারপাশ।
বনকর্মীরা বলছেন, তাদের অভিজ্ঞতায় এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় ছিল।
বনবিভাগের দাবি, ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত পাঁচ কোটি টাকার অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। যা দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
মিহির কুমার দো আরও বলেন, বনের মধ্যে প্রায় শতাধিক মিঠা পানির পুকুর ছিল। এগুলোই ছিল বন্যপ্রাণিদের ও বনকর্মীদের পানি পানের একমাত্র উৎস। এখন পুকুরগুলো জোয়ারের পানি আসায় লোনা পানিতে ভরে গেছে। ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।
এখন পর্যন্ত শুধু বনের হরিণের মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও বাঘ, বানরসহ অন্য প্রাণিদের হতাহতের তথ্য নেই বন বিভাগের কাছে। সেই সঙ্গে বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে অনুসন্ধান চলছে।



