ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে বাগেরহাটের পানগুছি ও বলেশ্বর নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে মোড়লগঞ্জ ও শরণখোলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। তিন দিনেও ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু না হওয়ায় এখনও লোকালয় পানিতে নিমজ্জিত। বাড়ি-ঘর হারিয়ে, খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছে এখানকার মানুষ।
পানগুছি নদীর ৪১০ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে ও দেড় কিলোমিটারে বেশি বাঁধ উপচে প্লাবিত হয়েছে বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের বাড়ইখালী, বইবুনিয়া ও পঞ্চকুরন ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। তবে ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাতের তিন দিন পরেও বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি। এখনও জোয়ারের পানিতে ভাসছে বাড়ি-ঘর, খেত-খামার। আশ্রয় ও সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন গ্রামবাসী।
এলাকাবাসী বলছেন, বিগত ১৭ বছরে তাদের এলাকায় কোনো রকম উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। ঘূর্ণিঝড় শেষ হবার পর যে বাঁধ ভেঙে গেছে তা সংস্কার করতেও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কেউ আসেনি। ফলে প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।
অন্যদিকে শরণখোলার বলেশ্বর নদীর বাঁধ ও রিং বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রাম ও শরণখোলা সদরের বেড়ি বাঁধের বাইরের রিং বাঁধ এলাকা। মাঠ থেকে শুরু করে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। এখানে জীবন-যাপন এখন দুর্বিসহ।
রাজৈর গ্রামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জোয়ারের পানি ঢুকে সব প্লাবিত করে দিয়ে যায়, ফলে রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। তিন দিন পর্যন্ত রান্না-খাওয়া ছাড়াই দিন পার করছেন তিনি এবং তাঁর পরিবার।
আরেক বাসিন্দা জানালেন, তিন দিন ধরে এলাকায় নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, এর সাথে শুরু হয়েছে সুপেয় পানির সংকটসহ নানা সমস্যা।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হবে সহায়তা। এ ছাড়া বাঁধ সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে শরণখোলা ও মোড়লগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পরিসংখ্যান নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।



