আগামী ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রকৃত বরাদ্দ কমেছে। খাতটিতে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ১ লাখ ৪ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। যদিও মোট দেশজ উৎপাদনকে (জিডিপি) বিবেচনায় নিলে খাতটিতে প্রকৃত বরাদ্দ কমেছে।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন। দুপুর ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে তিনি এ আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে জিডিপির আকার ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এই হিসাবে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ দাঁড়ায় জিডিপির ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপিত সংশোধিত বাজেটের জিডিপি ৫০ লাখ ৪৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা বিবেচনায় নিলেও চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল জিডিপির ২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে উল্লিখিত জিডিপির সাথে তুলনা করলে এ হার দাঁড়ায় ২ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ, যেকোনো বিচারেই খাতটিতে প্রকৃতি বরাদ্দ কমেছে।
যেকোনো দেশের শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরামর্শকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন অর্থনীতিবিদেরা। কিন্তু বরাবরই বাংলাদেশে এই খাতে বাজেট বরাদ্দ কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারে না। এবারও সে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া তো নয়ই, বরং কিছুটা পিছু হটল বলা চলে।
প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ১১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য রাখা হয়েছে ৪৪ হাজার ১০৯ কোটি টাকা। আর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ১১ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। এই হিসাবে মোট শিক্ষা বাজেটের আকার দাঁড়ায় ৯৪ হাজার ৭১১ কোটি টাকা, যা প্রাক্কলিত মোট জিডিপির ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে ঘোষিত জিডিপির ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
প্রকৃত বরাদ্দ কমেছে প্রযুক্তি খাতেও। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা, যা প্রাক্কলিত জিডিপির শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। চলতি বাজেটে এ বরাদ্দ ছিল ১৫ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে ঘোষিত জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রেও খাতটিতে বরাদ্দ কমেছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দের একটি বড় অংশই পরিচালন ব্যয়। শিক্ষায় মন্ত্রণালয় ও দুটি বিভাগের পরিচালন বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। ফলে উন্নয়ন ব্যয় দাঁড়ায় মাত্র ৩৫ হাজার ২৪৫ কোটি টকায়। একই চিত্র প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন একটি বিভাগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।



