২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষিখাতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা কমানো হয়েছে। এতে কৃষিখাতে ১৭ হাজার ২৬১ কোটি টাকার ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সংশোধিত বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে ২৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা।
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। প্রস্তাবে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৪.২ শতাংশ।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৮ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।
বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে মোট ২ লাখ ২২ হাজার ৬৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এটি মোট ব্যয়ের ১১ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ ব্যয় ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরে কৃষিখাতে ১৭ হাজার ২৬১ কোটি টাকার ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট ভর্তুকি ও প্রণোদনার মাত্র ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের চেয়ে যা কম। চলতি অর্থবছরে প্রস্তাব করা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটের এই খাতেও দাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের প্রভাব স্পষ্ট। আইএমএফের শর্ত ছিল, এ ধরনের খাতে ব্যয় কমানো।
উল্লেখ্য, আইএমএফ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারের অনুকলে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে। ইতোমধ্যে দুটি কিস্তিতে ১১৬ কোটি ডলার পেয়েছে। তৃতীয় কিস্তি বাবদ আরও ১১৫ কোটি ডলার জুনের মধ্যেই পাওয়া যাবে। ওই ঋণের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এখন অর্থনীতিতে চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা শুরু হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত একদফা এর দাম কমেছে, বেড়েছে দুদফা। এর প্রভাবে পরিবহণ ভাড়া বেড়েছে। কিন্তু কমানোর পর তা কমেনি। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রভাব ইতোমধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে পড়তে শুরু করেছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে।



