বিভিন্ন মহলের আপত্তি স্বত্তেও প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে মূলধনী মুনাফার ওপর কর বসিয়েছে সরকার। এখন থেকে শেয়ার কেনাবেচায় ৫০ লাখ টাকার বেশি যতো টাকা মুনাফা হবে, তার ওপর প্রযোজ্য হারে কর দিতে হবে।
টানা দরপতনের আতঙ্কে যখন বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার ছাড়ছে, তখন নীতি-সহায়তার পরিবর্তে বাড়লো করের বোঝা। এতোদিন মূলধনী মুনাফার উপর ব্যক্তি পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদেরকে কর দিতে হতো না। এখন থেকে এই ক্ষেত্রেও দিতে হবে কর।
অর্থমন্ত্রী বাজেটে প্রস্তাব করেছেন, ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূলধনি মুনাফায় কোনো কর বসবে না। তবে ৫০ লাখ টাকার বেশি মুনাফা করলে তার ওপর প্রযোজ্য হারে কর দিতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো থেকে অর্জিত মুনাফার উপর এই কর বসানো হবে। এর ফলে, পুঁজিবাজার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থনীতিবিদ সালেহউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিচ্ছেন, তার মানে তো ব্যবসা বান্ধব পুরোপুরি তো হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা কিভাবে ক্যাপিটাল গেউন দিতে থাকেন, ট্যাক্সের ভার বাড়াবেন। তাদের তো লাভ হবে না।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে শেয়ারবাজার সার্বিক অর্থনীতির তুলনায় আরও পিছিয়ে পড়বে ও সংকুচিত হবে।
মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে আমরা আগেও বলেছি যে, এখনই সময় নয়। আমাদের পুঁজিবাজার একটি ক্রান্তিকাল পার করছে, এই সময় যেখানে পুঁজিবাজারের ক্যাপিটাল গেইনের ওপর ট্যাক্স বসানো হবে সেটা কিছুটা প্রতিবন্ধকতারই সামিল।’
প্রস্তাবিত বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অ–তালিকাভুক্ত করহার ব্যবধান কমানো হয়েছে। কয়েক বছর আগেও এ ব্যবধান ছিল ১০ শতাংশ। এখন তা ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে নতুন করে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে আরও নিরুৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।



